দেশের খবর

গাজীপুরে চাঁদা না দেওয়ায় জমি দখলের চেষ্টা, দম্পতিকে প্রাণনাশের হুমকি

গাজীপুরে বাড়ি নির্মাণে চাঁদা না দেওয়া ও জোরপূর্বক বাড়ি দখল করে অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে। 

গাজীপুর মহানগরের ১০নং ওয়ার্ডের কোনাবাড়ি আমবাগ এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শাহানাজ (৪০) ও জাহিদ দম্পতিকে প্রাণনাশের হুমকি দেন অভিযুক্ত জুয়েল ও কলি। এসময় মুঠোফোনে শাহানাজের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে এই সন্ত্রাসী দল। চাঁদা না পেলে শাহানাজ ও জাহিদ দম্পতিকে বিভিন্ন ধরনের হামলা-মামলার হুমকি দেন চাঁদাবাজরা। ফোন করে দেয় প্রাণনাশের হুমকি। সর্বশেষ তারা হামলা শিকার হয়েছেন। 

থানায় লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজ মিয়ার ছেলে জুয়েল ইসলাম এবং তার স্ত্রী শাহানাজ বেগমকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে হঠাৎ করেই তাকে গালিগালাজ শুরু করেন। প্রতিবাদ করায় জুয়েল ধারালো অস্ত্র (বটি) দিয়ে তাকে কোপানোর চেষ্টা করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয় শাহনাজ (৫৫), পারুল (৪৫), কলি (৩০), জমিলা (৪৫), বুরহান (৫০) সহ অজ্ঞাত ৪- ৫ জনের বিরুদ্ধে। আরও উল্লেখ করা হয় শাহানাজ- জাহিদ দম্পতির বাড়িতে কোনো ভাড়াটিয়া থাকতে দেওয়া হয় না, নানান তালবাহানার কথা বলে কৌশলে ভাড়াটিয়াদের বাধা দেয়। বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দেন। বিভিন্ন সময় দম্পতির বাড়ির পাশে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মহড়া দিয়ে এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা শাহাদাৎ, তার মা শাহনাজ, পারুল, জুয়েলসহ ৪- ৫ জন মিলে শাহানাজ-জাহিদ দম্পতির বাড়ি নামমাত্র স্বল্প মূল্যে বাড়ি কিনতে চায়, শাহানাজ যখন নবনির্মিত বাড়ি বিক্রি করতে অপারগ জানালে কৌশলে জোরজবরদস্তির মাধ্যমে বাড়ি দখল করে তাদের নিজ জিম্মায় নামে লিখে নিতে চায় তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, আমাদের প্রতিবেশি শাহানাজের উপর শাহাদাৎ কৌশলে বিভিন্ন মানুষের মাধ্যমে হেনস্তা করেন, তাদের উপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি দেখান যাতে তাঁরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান। 

অভিযুক্ত জুয়েল ইসলামের স্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। আপনার কাছে ঘটনাটি শুনে হাসি পায়। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না, আমাদের অভিভাবক আছেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটনের (জিএমপি) কোনাবাড়ি থানার উপ-পরিদর্শক এবং তদন্ত কর্মকর্তা মো. তাইম বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের কপিটি থানায় জমা হয়েছে। সেটি বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের অনুমতি পেলে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বায়ান্ন/প্রতিনিধি/একে



সম্পর্কিত খবর