দেশের খবর

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক যেন এক মৃত্যুফাঁদ

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে প্রায় প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে একদিকে যেমন প্রাণহানি ঘটছে, পঙ্গু হচ্ছে শত শত মানুষ। একমাত্র গত ৭ দিনে এই মহাসড়কে চারটি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ছয়জনের; আহত হয়েছেন শতাধিক।  ১৪৮ কিলোমিটারের এই সড়কটি বেশিরভাগ জায়গায় ১৮ থেকে ২২ ফুট প্রশস্ত। অপ্রশস্ত সড়ক, বিভাজক না থাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে জানুয়ারি থেকে আগষ্ট পর্যন্ত আট মাসে ৬৫টি দুর্ঘটনায় ৯৮ জন নিহত হয়েছেন; ২৫৬ জন আহত হয়েছেন। হাইওয়ে পুলিশ, চালক, বিআরটিএ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছে ঢাকা পোস্ট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অপ্রশস্ত সড়ক, ঝুঁকিপূণ বাঁক, বিভাজক না থাকা ও অনিয়ন্ত্রিত গতির কারণ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে।

 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ বলেন, সড়কটি মাত্র দুই লেনের। দুপাশে গাছের কারণে ও কিছু বাঁকে সামান্য দূরে দেখা যায় না। যার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারায় অথবা মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ ছাড়া ডিভাইডার না থাকায় দুর্ঘটনা বেশি ঘটে। মহাসড়কে অবৈধ থ্রি হুইলার চলাচল ও সড়কের পাশাপাশি বাজারে রাস্তা পারাপারে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে। এ ছাড়া অনিয়ন্ত্রিত গতিও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

 

সড়ক প্রশস্তকরণ, সড়ক বিভাজক স্থাপন ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক কমিয়ে আনলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে বলে মনে করছেন এই শিক্ষক। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের গুরুত্ব কোনো অংশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চেয়ে কম নয়। পর্যটন খাত বিবেচনায় সড়কটি চার লেন আরও অনেক আগে করা দরকার ছিল। পাশাপাশি দুপাশে সার্ভিস লাইন করা দরকার। তবুও সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই। রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার অভাবে এতোগুলো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাই আমরা এটিকে দুর্ঘটনায় মৃত্যু বলবো না, বলবো সরকারি হত্যাকাণ্ড।’

 

অপ্রশস্ত সড়ক ও বিভাজক না থাকা

১৪৮ কিলোমিটারের এই সড়কটি অতিক্রম করতে ৫ থেকে সাড়ে ৫ ঘণ্টা লেগে যায়। অথচ প্রায় ৩শ কিলোমিটারের ঢাকা-চট্টগ্রাম যেতে সময় লাগে ৬ থেকে সাড়ে ৬ ঘণ্টা। অপ্রশস্ত সড়কের কারণে মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, আবার জীবন দিয়েও খেসারত দিতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়ক বিভাজক না থাকায় ওভারটেকিং করতে চায় চালকেরা। এতে বিপরীতমুখী পরিবহনের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটছে। হানিফ পরিবহনের চালক আবু ছালেক বলেন, মহাসড়কে স্বাভাবিকভাবে গাড়ির গতি একটু বেশি থাকে। এক্ষেত্রে সড়ক ছোট হওয়ায় দুর্ঘটনা বেশি হয়। সড়ক বড় থাকলে ইমার্জেন্সি ব্রেক করে অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। এখানে এমন কিছু মোড় আছে ৪০-৫০ ফুট সামনে কী সেটা ঠিক মতো বোঝা যায় না। চালকদের সচেতনতা দরকার। তবে এর চেয়ে বেশি দরকার সড়কটি বড় করা।

 

বুয়েট শিক্ষক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ বলেন, সড়কটির বিভিন্ন অংশে হাটবাজার রয়েছে। সেখানে অনেকে অসাবধানে পারাপার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। সড়কের মাঝে বিভাজক থাকলে পথচারী সেখানে দাঁড়াতে পারে, তখন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন; ফলে ঝুঁকিটা কমে আসে। বিভাজক না থাকলে পুরো সড়কটি একবারে পার হতে হয়, ওই সময়ে সিদ্ধান্তহীনতায় পড়েন পথচারীরা। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।

 



সম্পর্কিত খবর