রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাপানকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। মিয়ানমারের পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা ও নীতিগত ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, এ সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা করছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর শেষে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়।
বহুপক্ষীয়সহ আন্তর্জাতিক যেকোনো প্ল্যাটফর্মে এ বিষয়ে আলোচনা করবে বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, জাপানের সঙ্গে আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি এসেছে।
এ সংকট সমাধানে জাপানকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান বাংলাদেশ চায় এবং এক্ষেত্রে মিয়ানমারকে এগিয়ে আসতে হবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় বাংলাদেশ ও জাপান উভয়েই বিশ্বাস করে। এক্ষেত্রে দুই দেশের ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
জাপানের সঙ্গে পাঁচ বছরে ৬ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন শুধু সহজ শর্তের ঋণের ওপর নির্ভরশীল নয়। দেশটি এখন বিনিয়োগ ও ব্যবসাভিত্তিক পারস্পরিক অংশীদারত্বের দিকে এগোচ্ছে।
তিনি বলেন, আগে বাংলাদেশ কনসেশনাল বা সহজ শর্তের ঋণের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এখন বাংলাদেশ সমমর্যাদার অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায়। এ ধরনের অংশীদারত্বে কোনো পক্ষই অধস্তন নয়, বরং উভয় দেশ যৌথ অংশীদার।
জাপানের ঋণের সুদের হার বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, বিনিয়োগ গ্রহণের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী ও লাভজনক অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় যেসব বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, সেগুলোই অগ্রাধিকার পাবে। অন্যান্য আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সুযোগের সঙ্গেও তুলনা করা হবে।
জাপানের সঙ্গে বিকল্প নিরাপদ সমুদ্রপথ এবং সি-ওপেন ইনিশিয়েটিভ ৩.০-এর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না– এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের আলোচনায় বঙ্গোপসাগরের রুট কিংবা সমুদ্রপথ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
তিনি বলেন, আমরা এখানে বঙ্গোপসাগরের রুটও আলোচনা করতে যাইনি, সমুদ্রপথও আলোচনা করতে যাইনি। দ্বিপক্ষীয় নির্দিষ্ট বিষয় ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে আলোচনা করিনি। এসব বিষয়ে আলোচনা করতে হলে অন্য রাষ্ট্রগুলোকেও প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের সব সিদ্ধান্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ভিত্তিতে নেওয়া হবে। জাতীয় স্বার্থের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কোনো সংবেদনশীল বিষয় থাকলে তা জাতীয় সংসদে আলোচনা করা হবে।
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, জাপানের সঙ্গে যৌথ বিবৃতি কোনো একতরফা বিষয় নয়। এটি দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হয়েছে। বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার দেশের মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে দেশটির সম্রাটের সঙ্গে সাক্ষাৎ না হওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাপানের সম্রাট রাজনৈতিক ও পররাষ্ট্রবিষয়ক কার্যক্রমে যুক্ত হন না। তিনি নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকেন। এ বিষয়ে প্রশ্ন করার আগে জাপানের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন নিজের অবস্থান ও মর্যাদা বজায় রেখে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এগিয়ে নিচ্ছে। বাংলাদেশের অবস্থানকে জাপান সম্মান করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।