দেশের খবর

দ্রুত বিচার ও ফাঁসি কার্যকরের দাবি স্বজনদের

নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে অন্যতম নির্মম ও আলোচিত ৭ খুনের ঘটনার একযুগ পেরিয়ে গেছে। তবে এখনো বিচারিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়নি। তাই দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত এক মানববন্ধনে এই দাবি জানান তারা। মানববন্ধনে অংশ নেন নিহত নজরুল ইসলাম, চন্দন কুমার সরকারসহ অন্যদের পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী।

নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেন, “আমরা স্বজনদের হারিয়েছি ১১ বছর পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখনও খুনিদের ফাঁসি কার্যকর হয়নি। আমরা সাতটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নিগৃহীত অবস্থায় রয়েছি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও বিচার বিভাগের কাছে আমাদের আবেদন, দয়া করে এই মামলার বিচারকাজ দ্রুত শেষ করুন। আমরা জীবিত থাকতে ন্যায়ের প্রতিফলন দেখতে চাই।”

একই মানববন্ধনে কথা বলেন নিহত জাহাঙ্গীরের স্ত্রী সামছুন নাহার নুপুর। তিনি বলেন, “যেদিন আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়, সেদিন আমার মেয়ে ছিল গর্ভে। এখন তার বয়স ১১ বছর। এখনও সে জানে না তার বাবার হত্যাকারীরা শাস্তি পেয়েছে কিনা। বিচারপ্রক্রিয়া এখনো ঝুলে আছে। আমরা চরম অসহায়।”

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোড থেকে অপহৃত হন তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তাঁর চার সহযোগী এবং আলাদা সময়ে আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তাঁর গাড়িচালক। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে একে একে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দুটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি এবং চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে র‍্যাব সদস্যদের জড়িত থাকার ভয়াবহ তথ্য। র‍্যাব-১১ এর তৎকালীন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন ও নাভাল কমান্ডার মাসুদ রানার নাম উঠে আসে। নজরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী ও তৎকালীন কাউন্সিলর নূর হোসেনের নেতৃত্বে এই পরিকল্পিত অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে তদন্তে উঠে আসে।

২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত আলোচিত এই মামলায় ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। পরে হাইকোর্টে আপিল করলে ২০২২ সালে হাইকোর্ট ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং বাকি ১১ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন দেন। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৯ আসামির সাজা বহাল থাকে।

তবে এখনও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলাটি বিচারাধীন। দীর্ঘসূত্রতা এবং মামলার নিষ্পত্তিতে বিলম্বে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতদের পরিবার।

১১ বছর ধরে ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষা করা এই সাত পরিবারের কণ্ঠে আজ একটাই আকুতি— “আর কতকাল?” তারা চান, দৃষ্টান্তমূলক এই মামলাটি দ্রুত শেষ হোক এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর এমন ভয়াবহ ঘটনার সাহস না পায়।

 

বায়ান্ন/এএস



সম্পর্কিত খবর