ছয় দফা দাবি আদায়ে সমাবেশ করেছে নওগাঁ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার দুপুরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।
কারিগরি ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ডাকে পূর্বঘোষিত মহাসমাবেশ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা ১১টার দিকে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক হয়ে মুক্তির মোড় শহীদ মিনার চত্বরে সমাবেশস্থলে মিলিত হয়।
এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা, ‘তুমি কে আমি কে, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার’, ‘মামা থেকে মাস্টার, মামাবাড়ির আবদার’, ‘এক হও এক হও, পলিটেকনিক এক হও’, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব দাও’ এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কর্মরত জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর পদে ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরদের পদোন্নতি দিয়ে সম্প্রতি হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। এই রায় তাঁরা বাতিল চান। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে। ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরদের ২০২১ সালে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। হাইকোর্টের এই রায় বাতিলসহ ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষার্থীরা এর আগে স্মারকলিপি প্রদান, মানববন্ধন , সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তাদের যৌক্তিক দাবিগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষা করা হচ্ছে। তাই দ্রুত দাবিগুলো পূরন করা না হলে সারাদেশে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নওগাঁ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী কৌশিক সিদ্দিকী সাব্বির, মোত্তাকিনুল আলম, রাজিবুল হক, সামিউল ইসলাম, ওয়াকিল হাসান প্রমুখ।
কারিগরি ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার অন্যতম সমন্বয়কারী কৌশিক সিদ্দিকী সাব্বির বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার কারিগরি শিক্ষার্থীদের ব্লকেড কর্মসূচি বানচাল করার জন্য আলোচনার কথা বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ডেকে নিয়ে নাটক মঞ্চস্থ করা হয়। তারপরেও তাঁরা দুই সময় নিয়েও কারিগরি শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। ছাত্ররা যখন রাজপথে নেমেছে, অবশ্যই দাবি পূরণ করে ফিরবে।’
এর আগে ছয় দফা আদায়ের লক্ষ্যে গত ১৬ এপ্রিল নওগাঁ ঢাকা বাসস্টান্ড এলাকায় নওগাঁ-বগুড়া মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন নওগাঁ পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি হচ্ছে, জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর পদে ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরদের অবৈধ পদোন্নতির রায় বাতিল, । ২০২১ সাে নিয়োগপ্রাপ্ত ক্রাফট ইসস্ট্রাক্টরদের নিয়োগ বাতিল এবং সেই বিতর্কিত নিয়োগবিধি অবিলম্বে সংশোধন করতে হবে। ডিপ্লোমা ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে যেকোনো বয়সে ভর্তির সুযোগ বাতিল করতে হবে।
উপসহকারী প্রকৌশলী ও সমমান (১০ম গ্রেড) থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকা সত্ত্বেও যেসব সরকারি, রাষ্ট্রীয়, স্বায়ত্তশাসিত ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নিম্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কারিগরি সেক্টর পরিচালনায় পরিচালক, সহকারী পরিচালক, বোর্ড চেয়ারম্যান, উপসচিব, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব পদে কারিগরি শিক্ষাবহির্ভূত জনবল নিয়োগ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং তা আইনানুগভাবে নিশ্চিত করতে হবে। স্বতন্ত্র ‘কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা’ মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা ও ‘কারিগরি শিক্ষা সংস্কার কমিশন’ গঠন করতে হবে।
এছাড়া পলিটেকনিক ও মনোটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগের লক্ষ্যে একটি উন্নতমানের টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
বায়ান্ন/আরএস