চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে আওয়ামী লীগ নেত্রীর অনৈতিক ভিডিও প্রকাশ করায় মব সৃষ্টি করে স্থানীয় এক সাংবাদিক ও মাদ্রাসা শিক্ষককে মারধর, লুটপাট ও হত্যার হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সাথে মব সৃষ্টি করে তাকে ওই ভিডিও কাটতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভুক্তভোগী সাংবাদিক শফকত হোসাইন চাটগামী বাদী হয়ে বাঁশখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শফকত হোসাইন চাটগামী একজন সাংবাদিক ও মাদ্রাসার শিক্ষক এবং বাঁশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি। তিনি মামলায় উল্লেখ করেন যে, তার ফেসবুকে পেইজে আওয়ামী লীগ নেত্রী ফরহানা আক্তারের হোটেলে পুরুষ সঙ্গী নিয়ে অভিসারের ভিডিও এবং ওই নারী নেত্রীর ব্লাক মেইল নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওটি ভাইরাল হলে গত ৩ সেপ্টেম্বর বাঁশখালী পৌর সদরের সৌদিয়া মার্কেটের ২য় তলায় অবস্থিত দারুল কারিম মাদ্রাসার অফিসে প্রবেশ করে আসামিরা তাকে অঙ্গহানি করার হুমকি দেয় এবং হামলা করে। এসময় আসামিরা মাদ্রাসার আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ১ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করে লুটপাট চালায়। এ সময় বাদীকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাঁশখালী হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় বাদী প্রাণনাশের ভয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর আদালতে নালিশী মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলো— জালাল উদ্দিন (৫৮), ফরহানাজ বেগম (৩৮), দেলোয়ার হোসেন (৩৪), শব্বির আহমদ (৩৫), সালউদ্দিন (২৪), গিয়াস উদ্দিন (৩২) ও আমিনুল ইসলাম (৩৫)।
বাদী অভিযোগ করেন, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, নারী-নির্যাতন, ভূমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। বাদী যেহেতু সাংবাদিক হিসেবে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি প্রকাশ করে আসছেন, এজন্য তাকে পরিকল্পিতভাবে হামলার শিকার হতে হয়েছে।
বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন জানান, আওয়ামী লীগ নেত্রীর অনৈতিক কর্মকান্ডের ভিডিও প্রকাশ করায় মব সৃষ্টি করে আসামিরা সাংবাদিক শফকত চাটগামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে। তাকে ভিডিও ডিলেট করতে বাধ্য করার পরও মারধর ও অফিসে লুটপাট চালায়। শুনানি শেষে আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে।