যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্তত কয়েক ডজন দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা (ইমিগ্র্যান্ট ভিসা) প্রদান স্থগিত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। সোমবার (২ মার্চ) সকালে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক বার্তার মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকেই এই নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে আসা অভিবাসীদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে হবে। মূলত যেসব দেশের অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর তুলনামূলক বেশি হারে সরকারি সহায়তা (পাবলিক বেনিফিট) গ্রহণ করেন এবং মার্কিন করদাতাদের ওপর অর্থনৈতিক বোঝা হিসেবে গণ্য হন, সেসব দেশের ক্ষেত্রেই এই স্থগিতাদেশ কার্যকর করা হয়েছে। বর্তমানে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এই দেশগুলোর নাগরিকদের স্ক্রিনিং ও যাচাইকরণ নীতিমালা পুনরায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ পর্যটক বা স্বল্পমেয়াদী ভ্রমণকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। দূতাবাস স্পষ্ট করেছে যে, এই স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র অভিবাসী বা স্থায়ীভাবে বসবাসের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, ‘ভিজিটর ভিসা’ বা স্বল্পমেয়াদী ভ্রমণের ভিসার ক্ষেত্রে নয়। অর্থাৎ পর্যটন, ব্যবসা বা চিকিৎসার মতো প্রয়োজনে আগের নিয়মেই ভিসা পাওয়া যাবে। এছাড়া বর্তমানে যারা অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদন করেছেন, তারা আবেদন জমা দিতে পারবেন এবং নির্ধারিত সাক্ষাৎকারেও অংশ নিতে পারবেন। পররাষ্ট্র দপ্তর নিয়মিতভাবে সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই স্থগিতাদেশের তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি আরও কয়েক ডজন দেশ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দেশগুলো হলো—আফগানিস্তান, পাকিস্তান, রাশিয়া, মিয়ানমার, মিশর, ইরান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, সুদান, নেপাল, ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও ইথিওপিয়া। মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার পথকে সাময়িকভাবে সংকুচিত করল। আন্তর্জাতিক এই সিদ্ধান্তের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে অভিবাসন প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।