রাজনীতি

‘স্বাধীনতার পর ৫৪ বছরে সংঘটিত সব অপরাধের বিচার করতে হবে’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছর দেশে দলবাজির নামে যারা গুম, খুন, হত্যা, ছিনতাই, রাহাজানি, লুন্ঠন ও নারী নির্যাতনসহ ফৌজদারি অপরাধ করেছে তাদের বিচার করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে বিচার বিভাগকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে বর্তমান অন্তবর্তী কালীন সরকারের নিকট বিগত সময়ের এসব ঘটনায় যারা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তাদেরকে সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন বাস্তবায়ন করতে হবে। সংঘটিত অপরাধের বিচার করতে পারলে দেশের মানুষ শান্তিতে থাকতে পারবে। 

শনিবার বেলা ১২টায় দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোড়-এ শহীদ বড় ময়দানে দিনাজপুর জেলা জামায়াত ইসলামীর আয়োজনে কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমীর বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থেকে দেশের সম্পদ ২৬ লাখ কোটি টাকা লুণ্ঠন করে নিয়ে গেছে। শেখ হাসিনা ভেবেছিল দেশের মানুষকে যেন তেনো ভাবে ভুল বুঝিয়ে ক্ষমতায় থেকে দেশকে উন্নয়নের কথা বলে মানুষকে বোকা বানাবে। কিন্তু এদেশের মানুষ গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তার ওই সব অপকর্মের সঠিক জবাব দিয়েছে। শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে যে অপবাদ দিয়েছিল, যুব সমাজ সেই অপবাদকে স্লোগান হিসেবে বাস্তবায়নে শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের দেশ থেকে বিতারিত করতে সক্ষম হয়েছে। এখন দেশে একটি শান্তির বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। যুব সমাজের এই ত্যাগকে সকলে সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। তবেই যুব সমাজের আত্মত্যাগকে সঠিক মূল্যায়ন করা যাবে। 

তিনি বলেন, এ অঞ্চলের একজন বিচারক শপথ নিয়ে নিজেকে দলীয় বিচারক হিসেবে পরিচয় দিয়ে তার শপথ তিনি ভঙ্গ করেছেন। বিচারকের শপথ ভঙ্গের জন্য তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা হওয়া উচিত। 

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে যেসব অপরাধজনক ঘটনা ঘটেছে তার জন্য মিথ্যা ভাবে জামায়াত ইসলামকে দায়ী করে এ দেশের নারী পুরুষ, এমনকি শিশুরা পর্যন্ত তাদের মিথ্যা মামলার দায় থেকে রক্ষা পায়নি। লক্ষ লক্ষ মিথ্যা মামলা দিয়ে জামায়াতের কর্মীদের জেল হাজতে পাঠিয়েছিল। তাদের আক্রোশে জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের ১১ জন নেতা বরণ করেছে। জামায়াতের ৫ জন শীর্ষ নেতাকে ফাঁসীতে ঝুলানো হয়েছে। এরপরও এই দলটি এখনো ঠিকই আছে বলে তিনি সৃষ্টিকর্তার নিকট শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন।

তিনি আরও বলেন, জামায়াতের বিরুদ্ধে অপবাদ- এই দলটি ক্ষমতায় আসলে নারীদের ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হবে না। কিন্তু তা আজ এই কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। নারীরা কর্মী সম্মেলনে যোগদান করে তাদের অবদান ঠিকই রেখেছেন। 

আগামী দিনে যদি সুযোগ হয় জামায়াত নির্বাচনে জয় যুক্ত হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে, নারী-পুরুষ সকলের সঠিক মূল্যায়ন করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন। 

জেলা জামায়াতে আমীর অধ্যক্ষ মো. আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে ২০ বছর পর অনুষ্ঠিত কর্মী সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় জামায়াতের সরকারি সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মো. আব্দুল হালিম, রংপুর বিভাগীয় জামায়াতের আমীর ও পরিচালক অধ্যক্ষ মো. মমতাজ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল, ঢাকা দক্ষিণ মহানগরের সেক্রেটারী মো. দেলোয়ার হোসাইন, ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ও কর্মপরিষদ সদস্য মো. আব্দুল হাকিম, কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলাম, কর্ম পরিষদ সদস্য মো. আফতাব উদ্দিন মোল্লা।

এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন- জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ভুট্টো, দিনাজপুর শহর ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নেতা মো. মতিউর রহমান, দিনাজপুর জেলা জামায়াতের হিন্দু ইউনিটির সদস্য ও বিরামপুর মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শিশির কুমার সরকার, নিতাই চন্দ্র দেবনাথ, ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি দিনাজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি রাজিবুর রহমান পলাশ, দিনাজপুর শহর জামায়াতের আমির সিরাজুস সালেহীনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

কর্মী সম্মেলনটি পরিচালনা করেন দিনাজপুর জেলা জামাতের সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ডক্টর মো. এনামুল হক।

কর্মী সম্মেলনে দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলা ও ৯টি পৌরসভার জামায়াতের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। এছাড়াও সম্মেলনে রংপুর বিভাগের অপর ৭টি জেলার নেতাকর্মীরা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বলে জানানো হয়।

বায়ান্ন/প্রতিনিধি/একে



সম্পর্কিত খবর