জাতীয়

আমতলীতে বিএডিসির বীজে সিন্ডেকেট। ৬৭০ টাকার বীজ ধান ৭’শ ৫০ টাকায় বিক্রি!

বরগুনার আমতলী উপজেলায় আমনের সরকারী বিএডিসির (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন)  বিআর-৪৯ ও বিআর-২৩ ধানের বীজ মধু প্যাদা নামের এক ডিলার সিন্ডিকেট করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে তিনি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে মধু প্যাদা বরিশাল ফরিদ মিয়া নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে বীজ এনে তার গোডাউনে মজুদ করে কৃত্রিম সংঙ্কট তৈরি করেছেন। ওই বীজ তিনি আমতলী, তালতলী, রাঙ্গাবালি ও কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন দোকানে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছেন। 

গত বছর ডিলার মধু প্যাদার ক্রয়কৃত বীজে ধান হয়নি। এ নিয়ে কৃষকরা আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ও তালতলী উপজেলার কচুপাত্রা বাজারে মানববন্ধন করেছেন। কুষকরা দ্রুত মধু প্যাদার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন। 

কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, আমতলী উপজেলায় এ বছর আমন চাষাবাদের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি। ওই জমির আবাদের জন্য বীজ ধান প্রয়োজন ৫’শ ৮০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ৯৫% কৃষক ফলন ভালো হওয়ায় বিআর-৪৯, বিআর -২৩ জাতের বীজ ধানের চাষাবাদ করে থাকেন। পটুয়াখালী বিএডিসি কর্তৃপক্ষ এ বছর আমতলী উপজেলায় ৫৫ মেট্রিক টন আমনের বীজ ধান সরবরাহ করেছেন। যা প্রয়োজনের তুলনায় নগন্য। এতে বীজ সংকটে পরেছে উপজেলার কৃষকরা। 

উপজেলায় ডিলার ও বীজের দোকানে বিআর - ৪৯ ও বিআর-২৩ জাতের ধানের বীজ পাওয়া যাচ্ছে না। বীজ না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পরেছে তারা (কৃষকরা)। কিছু ধান পাওয়া গেলেও তা অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। বিআর-৪৯ ও বিআর-২৩ ধানের বীজ ৬৭০ টাকার বীজ ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

খেকুয়ানী গ্রামের আলতাফ হাওলাদার বলেন, ১০ কেজির বিআর-২৩ ধানের একটি বস্তা দোকান থেকে ৭৫০ টাকায় ক্রয় করেছি। 

আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের রফেজ মিয়া বলেন, ১০ কেজি বিআর-৪৯ ধানের বীজ আমতলী থেকে ৭’শ ৫০ টাকায় ক্রয় করেছি।

মেসার্স রেজবি এন্টার প্রাইজের মালিক মোঃ মধু প্যাদা অতিরিক্ত দামে বিক্রির কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি সরকারীভাবে দুইটি লাইসেন্সে ৪ মেট্রিকটন বীজ পেয়েছি। এছাড়াও বীজের চাহিদা থাকায় বরিশাল জননী টেডার্সের মালিক ফরিদ মিয়ার কাছ থেকে গত ২৫ দিনে ৬০ মেট্রিকটন বিএডিসির বিআর-৪৯ ও বিআর-২৩ জাতের ধানের  বীজ ক্রয় করেছি। ওই ধান বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করছি। আপনী বিএডিসির অনুমোদন ছাড়া একজন ব্যক্তির কাছ থেকে এতো বীজ কিভাবে ক্রয় করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএডিসির সকল কর্মকর্তা আমার বীজ ক্রয়ের বিষয়টি জানেন। তাদের জানিয়েই আমি বীজ ক্রয় করেছি।

বরিশাল জননী টেডার্সের মালিক ফরিদ মিয়া বলেন, আমতলীর মধু প্যাদার কাছে বিএডিসির অনেক বীজ বিক্রি করেছি। 

আমতলী উপজেলা কৃষি অফিসার রাসেল মিয়া  বলেন, আমনের বীজতলার শেষ মুহুর্তে কেউ যদি বেশী দামে বীজ বিক্রি করে থাকে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

বরিশাল বিএডিসির উপ-পরিচালক মোঃ আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমুলক আচরণ করে বলেন, মধু প্যাদাসহ সকল ডিলার বাহির থেকে বীজ ক্রয় করলে আপনাদের সমস্যা কোথায়?  আপনারা এতো বাড়াবাড়ি করেন কেন? আমি আপনাদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসককে জানাচ্ছি। 

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রোকনুজ্জামান খাঁন বলেন, বিএডিসির বীজের কৃত্রিম সংঙ্কট তৈরি করে কোন ডিলার বেশী দামে বীজ বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।  

 



সম্পর্কিত খবর