গত ২৪ আগস্ট ২০২৬, সোমবার আলীকদম উপজেলার সোনালী ব্যাংক শাখায় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক না থাকায় সেবা না পেয়ে এক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করলে ব্যাংক ম্যানেজারের সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ম্যানেজার ওই গ্রাহককে পুলিশে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকের নাম মোঃ ছাদেক মিয়া। তিনি আলীকদমের স্থানীয় বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর বরাতে জানা যায়, টানা দুই দিন ব্যাংকে এসেও প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে তিনি আবারও ব্যাংকে যান। কিন্তু সেদিনও বিদ্যুৎ না থাকা এবং নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে লেনদেন বন্ধ ছিল।
এ সময় তিনি ব্যাংক ম্যানেজারের কাছে এর কারণ জানতে চাইলে ম্যানেজার তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "আপনি কেন চিল্লাচ্ছেন?" জবাবে ছাদেক মিয়া বলেন, "চিল্লাব না তো কি করব? আমি একে একে দুই দিন ব্যাংকে এসে ফেরত গিয়েছি। আপনারা বিদ্যুতের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা রাখবেন না?"
অভিযোগ উঠেছে, এ সময় ম্যানেজার গ্রাহককে কোনো ধরনের সান্ত্বনা না দিয়ে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, "বিদ্যুৎ নেই, তার পাশাপাশি নেটওয়ার্কও নেই। আমরা কী করব? আমাদের জেনারেটর নষ্ট হয়ে গেছে, তাই সেবা দিতে পারছি না।" একপর্যায়ে ম্যানেজার আরও বলেন, "আপনি যেভাবে চিল্লাচ্ছেন, আমি চাইলেই আপনাকে পুলিশে দিতে পারি। মুরুব্বি মানুষ বলে দিইনি।" এ ধরনের হুমকিসূচক কথা বলায় ব্যাংকে উপস্থিত অন্যান্য গ্রাহকের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দেয়।
এদিকে টানা দুই দিন (৩০ ও ৩১ আগস্ট) বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাংকের সেবা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে এসে ঘণ্টা পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও টাকা তোলা বা জমা দিতে পারছেন না গ্রাহকেরা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জেনারেটর বা আইপিএসের মতো কোনো বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রাহক বলেন, "আমরা দূরদূরান্ত থেকে ব্যাংকে আসি। দিনের পর দিন ঘুরে গেলে আমাদের কাজকর্ম সব বন্ধ হয়ে যায়।"
এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংক আলীকদম শাখার ম্যানেজারের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। উপজেলার সচেতন মহল মনে করে, ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক থাকা উচিত। পাশাপাশি গ্রাহকদের সাথে দায়িত্বশীল ও মার্জিত আচরণ করাও ব্যাংক কর্মকর্তাদের নৈতিক দায়িত্ব।