ঢাকা

গাজীপুরে আসামি ধরতে গিয়ে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা নেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

গাজীপুরে গভীর রাতে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এক ভাড়াটিয়াকে গ্রেপ্তারের সময় স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক কর্মকর্তাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বাড়ির মালিক মো. শহিদুল ইসলাম (৪৯)।

শহিদুল ইসলামের অভিযোগ, গত ২৯ আগস্ট রাত আনুমানিক ২টার দিকে তৌহিদ উদ্দিন সোহাগ নামে এক ব্যক্তি তাঁর নির্মাণাধীন বাড়ির জানালা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে শীল-পাটা দিয়ে বাড়ির গেটের তালা ভেঙে ফেলা হয়। এরপর কাশিমপুর থানার এএসআই সেকেন্দার আলীসহ দুই পুলিশ সদস্য এবং আরও দুই ব্যক্তি বাড়িতে প্রবেশ করেন।

2-3794

অভিযোগে বলা হয়, বাড়ির লোকজন ঘুম থেকে উঠে তাঁদের পরিচয় ও আসার কারণ জানতে চাইলে পুলিশ সদস্যরা জানান, ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া কামালকে গ্রেপ্তার করতে তাঁরা এসেছেন।

শহিদুল ইসলামের দাবি, এ সময় পুলিশের এক সদস্য তাঁর ছেলের কক্ষের ওয়ার্ডরোবের ড্রয়ার থেকে ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, এক জোড়া স্বর্ণের বালা, ৮ আনা ওজনের এক জোড়া কানের দুল, ১০ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের টিকলি এবং নগদ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যান। অভিযোগে এসব স্বর্ণালঙ্কারের মূল্য কয়েক লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, মালামাল নিয়ে যেতে বাধা দিলে এএসআই সেকেন্দার আলী তাঁকে থাপ্পড় মেরে ফেলে দেন। এ সময় তাঁর ছেলে ও স্ত্রী এগিয়ে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। পরে ভাড়াটিয়া কামালকে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগে উল্লেখ করা স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন শহিদুল ইসলাম।

শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশের ওপর সাধারণ মানুষের যে আস্থা ও আত্মবিশ্বাস ছিল, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তা নষ্ট হচ্ছে। তাঁরা আমার বাড়ির ভাড়াটিয়া কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করতে এসেছিলেন। কিন্তু তাঁকে ধরতে গিয়ে আমার কক্ষে প্রবেশ করে ওয়ার্ডরোব থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা নিয়ে যান বলে আমি অভিযোগ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু মালামাল নেওয়াই নয়, বাড়ির মালিক হিসেবে আমার সঙ্গে তাঁদের আচরণও ছিল আসামির মতো। তাঁরা আমাকে মারধর করেছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। একই সঙ্গে আমার কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

তবে শহিদুল ইসলামের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাশিমপুর থানার এএসআই সেকেন্দার আলী। তিনি বলেন, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া মডেল থানার এসআই লুৎফরসহ পুলিশের একটি দল আসামি গ্রেপ্তারের জন্য ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। তিনি তাঁদের শুধু আইনি সহযোগিতা করেছেন।

সেকেন্দার আলী বলেন, ‘চোরাই মালামাল উদ্ধারের জন্য ওই পুলিশ দল বাড়িটি তল্লাশি করেছে। তবে অভিযানের সময় স্বর্ণালঙ্কার বা নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

অভিযোগে লুটপাটের কথা বলা হলেও এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন এএসআই সেকেন্দার আলী।

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’



সম্পর্কিত খবর