গাজীপুরে চাঁদার দাবিতে কিশোর গ্যাং সদস্যরা বাড়িতে হামলা চালিয়ে নাসির পালোয়ান (৯০) নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে মাথা ১৮ খণ্ড করার অভিযোগ উঠেছে। আহত নাসির পালোয়ান নামে ওই ব্যক্তিকে ৩৫ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর গত বুধবার রাতে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বাদ মাগরিব তার দাফন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে মহানগরীর কোনাবাড়ী থানার জরুন এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নাসির পালোয়ানের লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ি থানার জরুন এলাকায় সন্ত্রাসী হামলা চালায় কিশোর গ্যাংয়ের সংঘবদ্ধ সদস্যরা। এ হামলায় একই পরিবারের আরো ছয়জন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় কোনাবাড়ি থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেনের ছেলে ওয়াসিফ সালিমকে (২২) প্রধান আসামি করে কোনাবাড়ি থানায় একটি মামলা হয়েছে।
এ হামলায় আহত নাসির পালোয়ানের পরিবারের অন্য সদস্যরা হলেন তাঁর ছেলে আক্তার পালোয়ান (৫৬), লুৎফর রহমান পালোয়ান (৫০), শাহ আলম পালোয়ান (৪৫), পুত্রবধূ নাজমা বেগম (৫০), নাতনি শারমিন (২৭), পুতি শাহরিয়ার (১৫)।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেয়। পরে বৃদ্ধ নাসির পালোয়ানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। বাকিদের গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোনাবাড়ী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেনের ছেলে ওয়াসিফ সালিমের নেতৃত্বে এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে। সালিমের নেতৃত্বে ৩৫- ৪০ জনের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা গত ২৭ মে রাতে নাসির পালোয়ানের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালায়।
চিকিৎসকদের উদ্ধৃতি ও অস্ত্রোপচারের ছবি দেখিয়ে নিহত নাসির পালোয়ানের ছেলে মামলার বাদী শাহ আলম পালোয়ান জানান, সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে তাঁর বাবার মাথার খুলি ১৮ খণ্ড করেছে। মাথার খুলি অস্ত্রোপচারের পর প্রথমে তাঁকে আইসিইউতে ও পরে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বহু চেষ্টা করেও তাঁর বাবাকে আর বাঁচানো যায়নি।
শাহ আলম পালোয়ান অভিযোগ করেন, আমি জমি জমার ব্যবসা করে সংসারের উন্নতি করেছি। এতে আমাদের পরিবারের ওপর এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। চাঁদাবাজদের চাহিদা পূরণ না করায় আমাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর কোনাবাড়ী থানায় মামলা করতে গেলে আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ প্রথমে মামলা নেয়নি। অবশেষে নিরুপায় হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হলে ঘটনার প্রায় এক মাস পর গত ২৬ জুন থানায় মামলা রেকর্ড করে। মামলায় কোনাবাড়ী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেনের ছেলে কিশোর গ্যাং লিডার ওয়াসিফ সালিমকে (২২) প্রধান আসামি করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি সালাহ উদ্দিনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ইতিপূর্বেও কয়েকটি বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকাবাসী এই কিশোর গ্যাংয়ের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাহ উদ্দিন জানান, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে এলাকায় অভিযান চলছে। বাদীপক্ষ আদালতে যাওয়ার আগেই তিনি মামলা রেকর্ড করেছেন বলেও দাবি করেন।