জাতীয়

গাফিলতি ঠিকাদারের ভোগান্তি মানুষের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ বাজার প্রধান সড়ক সংস্কারে ঠিকদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, সড়ক সংস্কারের সব প্রস্তুতি শেষ করা হলেও কাজ শুরু করছে না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ফলে সড়কটি হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় সড়কে ছোট বড় অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তায় হাঁটু সমান কাঁদা-পানি জমে যায়। ফলে বিভিন্ন সময় ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে বিপাকে পড়েন এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন চালকরা। 
 
জানা যায়, জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দিয়ে সলিমগঞ্জ ও তার আশপাশের গ্রামের লোকজনই নয়, পার্শ্ববর্তী বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১০ থেকে ১৫টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন নিত্য দিনের কেনাকাটাসহ নানা প্রয়োজনে সলিমগঞ্জ বাজারে যাতায়াত করে থাকে। সেই সঙ্গে এলাকার স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। মেসার্স লোকমান হোসেন নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গত এক বছর আগে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে শ্যামগ্রাম বাজার থেকে সলিমগঞ্জ বাজার আঁকানগর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়ক ১৮ ফুট প্রসস্তকরণসহ উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব পান। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করে সলিমগঞ্জ বাজার প্রধান সড়কের একাংশে কাপেটিং করার উদ্দেশে সড়কের বিভিন্ন অংশ কেটে খোয়া আর মাটি দিয়ে দীর্ঘদিন ফেলে রাখায় সড়কে ছোট বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তায় হাঁটু সমান কাঁদা-পানি জমে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ জনগণ ও যানবাহন চালকদের। তাই জনদুর্ভোগ লাঘবে বেহাল সড়কটির সংস্কার ও মেরামতের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার ভুক্তভোগী জনগণ।
 
সলিমগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা সুধাংশু দাস বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কাজ বন্ধ করে রাখায় সড়কে ছোট বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। রাস্তাটি সংস্কারের নামে বর্তমানে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।'
 
এ সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী শ্যামগ্রাম বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম জানান, এক বছর আগে এ সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করলে এই কাজ যেনো শেষই হচ্ছেনা। আমরা রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ করার দাবী জানাচ্ছি।
 
এ বিষয়ে ঠিকাদার লোকমান হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
 
এ ব্যাপারে নবীনগর উপজেলার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাহবুব হোসেন জানান, এ কাজ শেষ হবার আরো সময় আছে। ঈদের পরে এ রাস্তার কাজটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুরোদমে শুরু করবে বলে আমাদের জানিয়েছেন। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাস্তার কাজ শেষ করবে।


সম্পর্কিত খবর