সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার সীমান্ত পথ মাদক ব্যবসায়ীদের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ২৫ কিলোমিটার সীমান্ত পথের অন্তত ১০ পয়েন্ট দিয়ে প্রায় প্রতিদিন ভারত থেকে বিভিন্ন ধরণের মাদক প্রবেশ করছে বাংলাদেশে। এসব মাদক সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে ওই তথ্য। এখানেই শেষ নয় ভারত থেকে অবৈধ পথে মাদক আনতে তার মূল্য পরিশোধ করতে হয় ডলারে। ডলার ছাড়া ভারত থেকে মাদক বাংলাদেশে আনা যায় না। আর ডলারে মূল্য পরিশোধ করলে মুনাফার পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের ডলার পাচার হয়ে যাচ্ছে ভারতে।
স্থানীয় সূত্র জানায় গোয়াইনঘাট সীমান্তে ৫টি বিওপি রয়েছে। বিওপির ক্যাম্প এড়িয়ে আশপাশ এলাকা দিয়ে ভারত থেকে অবৈধ পথে মাদক আনা হয়। ৫টি বিওপি হলো বিছনাকান্দি, সোনারহাট, পাদুয়া, সংগ্রাম ও তামাবিল।
সূত্র জানায় বিছনাকান্দির বগাইয়া হাওর হয়ে প্রতিদিনই বিভিন্ন ধরণের ভারতীয় পণ্য অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মাদক। এই এলাকা হয়ে সবচেয়ে বেশি মাদক আনা হয়। এইসব মাদকের মধ্যে রয়েছে বিয়ার, ফেনসিডিল, ইয়াবা টেবলেট ও বিভিন্ন ব্রান্ডের মদ। বিছনাকান্দি সীমান্ত দিয়ে মাদক এনে মূল ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয় সালুটিকরকে। এই সালুটিকর থেকে চাঁদার ভাগবাটোয়ারা হয়। চাঁদা বিভিন্ন মহলে পৌঁছে দেয়া হয়। নিয়ন্ত্র করে শফিক নামে এক ব্যক্তি। এখান থেকে মাদক সরবরাহ করা হয় সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। এই সালুটিকরে রয়েছে মাদকের খুচরা হাট। এই হাট প্রতিদিন সন্ধ্যার পর জমজমাট হয়ে উঠে। সিলেট শহরসহ আশপাশ এলাকার যুবকরা সন্ধ্যার পর ওই হাটে ছুটে যায়। গভীর রাত পর্যন্ত চলে মাদকের আসর। এই মাদকের আসরে মদ সরবরাহ করে খুচরা মাদক ব্যবসায়ীরা।
সূত্র জানায়, সোনারহাট, পান্থুমাই, লখনছড়া, পাদুয়া, সংগ্রাম, পশ্চিম জাফলং, পূর্ব জাফলং, তামাবিল সীমান্ত হয়েও ওইসব মাদকদ্রব্য বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এইসব সীমান্তের মাদক সরবরাহের পথ হিসেবে ব্যবহার করা হয় রাধানগর ও সিলেট-তামাবিল সড়ককে। তামাবিল ও আশপাশ এলাকায় ভাসমান মাদকের হাট রয়েছে। এই ভাসমান বাজারে মাদক বিক্রি হয় খুচরা হিসেবে। স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার আগে ও পরে বিপুল পরিমাণ মাদক বিক্রি হয় এখানে। বিভিন্ন এলাকার যুবকরা মাদক সংগ্রহ করে দ্রæত সেখান থেকে সরে যায়।
সূত্র জানায়, এই মাদক ব্যবসার সাথে স্থানীয় কতিপয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক পরিচয়দানকারী ক্যাডার, মুখোশধারী কিছু ব্যবসাযী জড়িত। এরা মাদক ব্যবসায় বিনিয়োগ করে। কিন্তু রয়ে যায় ধরাছোয়ার বাইরে। আবদুল্লাহ নামে মাদক ব্যবসায়ী মাফিয়ার রয়েছে বিশাল নেটওয়ার্ক। এই আবদুল্লাহ প্রতিমাসে কমপক্ষে কোটি টাকার মাদক বাংলাদেশে আনে অবৈধ পথে। কিন্তু সে রয়ে যায় ধরা ছোয়ার বাইরে। কারণ হিসেবে স্থানীয়রা জানান, আবদুল্লাহ নেপথ্যে অবস্থান করে নিজের লোক দিয়ে সকল মহলকে ম্যানেজ করে। এতে তার মাদক ব্যবসা নিরাপদ থেকে যায়। স্থানীরা এই মাদক ব্যবসাকে নিরাপদ রাখার জন্যে পুলিশকে বেশি দায়ি করেছেন। তবে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ কেএ নজরুল বলেছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন সীমান্তের বিষয়টি বিজিবির।
স্থানীয়রা বলেছেন, মাদক চোরাচালানিদের সাথে মাঝে মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এতে শুরু হয় অভিযান। সর্বশেষ গত ২১ সেপ্টেম্বর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৯০ বোতল ভারতীয় মদসহ কাউসার নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে। আটক কাউসার বিছনাকান্দির বগাইয়া গ্রামের বাসিন্দা।