কক্সবাজারের চকরিয়ায় চিংড়িজোনে অস্ত্রধারী ডাকাতরা সন্ত্রাসীরা একটি চিংড়ি ঘের জবরদখলে করতে গিয়ে হামলা ও তাণ্ডব চালিয়েছে। এসময় মোহাম্মদ হোসেন (৫৮) নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে তারা। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে চকরিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত মোহাম্মদ হোসেন মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের ছনখোলা পাড়া এলাকার মৃত আবুল খায়ের এর ছেলে। তিনি চকরিয়া উপজেলার রামপুর সমবায় কৃষি উপনিবেশ সমিতির সদস্য ও ঘেরের অংশিদার বলে জানিয়েছেন সমিতির সভাপতি আবু জাফর ও সম্পাদক শহীদুল ইসলাম লিটন।
তারা বলেন, সমিতির মালিকানাধীন চিংড়ি ঘেরটি দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্রধারী একটি ডাকাতদল জবরদখলে রেখেছিলো। সর্বশেষ গত ৮ জানুয়ারি চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, মহেশখালী কুতুবদিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার বাসিন্দা সমিতির সদস্যরা একজোট হয়ে সমিতির ঘেরে গিয়ে দখলবাজ ডাকাতদের বিতাড়িত করে বৈধভাবে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেন। কিন্তু পূর্বের অবৈধ দখলদার ডাকাতরা ফের জড়ো হয়ে অর্তকিত ভাবে হামলা তাণ্ডব ও উপর্যপুরী গুলি বর্ষণ শুরু করে।
তারা আরো বলেন, গুলি বর্ষণের বিকটশব্দে ভয়ে সমিতির সদস্যরা কেউ ঘরে, কেউ কেউ নদীতে সাঁতার কেটে অন্যকুলে আশ্রয় নেয়। এক পর্যায়ে ডাকাতরা খুব কাছে এসে মোহাম্মদ হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা নিশ্চিত করে।
নিহতের ভাই মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, তার ভাই মোহাম্মদ হোসেন অন্যান্য দিনের ন্যায় রাতে বাড়ি চলে যেতে চাইলেও তার সাথে থাকা বদরখালীর আজগর নামে এক ব্যক্তি নানান কৌশল ও ছলচাতুরীর মাধ্যমে রাতে মৎস্যঘেরে রেখে দেন। ইতিপূর্বে সাহারবিলের চেয়ারম্যান নবী হোসেনের নেতৃত্বে একদল বাহিনী রামপুর সমিতির ঘেরটি জবর দখলের চেষ্টা চালিয়েছিলেন। হয়তো তাদের যুগসাজসে আজগরকে ব্যবহার করে পরিকল্পিত এ হত্যাকান্ড সংঘঠিত করতে পারে বলে জানান।
ঘটনার খবর পেয়ে চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রকীব উর রাজা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এরপূর্বে থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌছে লাশের সুরতহাল তৈরি করেন এবং সন্ধ্যা নাগাদ লাশের ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন।