চট্টগ্রাম বায়েজিদ বোস্তামী হিলভিউ এলাকায় খেলনা পিস্তল ও ১০টি ধারালো কিরিচসহ ১৭জনকে উদ্ধার করে বায়েজিদ থানা পুলিশ।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, বাদী আব্দুল আল মনির পিন্টু (৩৩) অভিযোগে উল্লেখিত গত ১২ জানুয়ারী ২০২৪ বিকাল ৩টার সময় বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন বার্মা কলোনীর মুখ হইতে ১নং অভিযুক্ত’র নেতৃত্বে ২-২৫নং অভিযুক্ত’সহ অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জন অভিযুক্ত এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করিয়া তাহাদের হাতে থাকা পিস্তল, কিরিচ, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড, লাঠি ও মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মিছিল শুরু করিয়া বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন আলীনগর ১নং রোড দিয়ে আমিন কলোনী হইয়া আমিন কলোনী ১০নং কোয়াটার সংলগ্ন মোহাম্মদ নগর ৯নং রোডস্থ মরহুম কালা মিয়ার জেয়াফতে আসা স্থানীয় কাউন্সিলর সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের উপর এলোপাতাড়ি ইট, পাটকেল মারিতে থাকে। স্থানীয় কাউন্সিলর’সহ উপস্থিত লোকজন অভিযুক্তদের বাঁধা দিলে ৬নং অভিযুক্ত মোঃ শাওন (২৫) এর হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে ভীতি প্রদর্শনের জন্য বাস্তুহারা কলোনীর মুখে ডাক্তার মতিনের বাড়ীর সামনে ফাঁকা ফায়ার করিয়া অভিযুক্তরা তাহাদের মিছিল নিয়ে গত ১২/০১/২০২৪ইং তারিখ বিকাল ৪টা পর্যন্ত বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন হিলভিউ মসজিদ সংলগ্ন আলী নগর ১নং রোডের মুখে গিয়ে স্থানীয় লোকজনদের মারধর ও বাদীর সঙ্গীয়দের দোকান পাট ভাংচুর করিতে থাকে। অভিযুক্তগন দোকান ভাংচুর করার সময় বাদীর ভাই আবদুল্লা আল মাহমুদ (৩৭) তাহাদের বাঁধা দিলে ২নং অভিযুক্ত মোঃ ইউসুফ (৩৫)’র হাতে থাকা চাপাতি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে বাদীর ভাইকে কোপ মারিলে উক্ত কোপ বাদীর ভাইয়ের বাম পায়ের রানে কোপ লাগিয়া রক্তাক্ত গুরুতর জখম প্রাপ্ত হয়। উক্ত দোকনে থাকা মোহাম্মদ পিয়াস ইসলাম (৩৭) এর পকেট হইতে ১২নং অভিযুক্ত মোঃ মিঠু (২৬) তাহার ব্যবহৃত জবফসর ঘড়ঃব ৭ ঢ়ৎড়, মূল্য অনুমান ২০,০০০/- টাকা নিয়ে যায়। ৯নং অভিযুক্ত মোহাম্মদ শামসু (৩৮) উক্ত দোকানের ড্রায়ারে থাকা নগদ ২,৩০০/- টাকা নিয়ে যায়। বাদীর সঙ্গীয় মোঃ আলমগীর (৪০)’র বিরিয়ানী দোকান ভাংচুর সহ দোকানে ক্যাশ বক্সে থাকা নগদ ৭,২০০/- টাকা ৫নং অভিযুক্ত মোঃ শাকিল (২২) নিয়ে যায়। বাদীর সঙ্গীয় মোঃ জামাল হোসেন সুমন (৩৩)’র এর মনিহারী দোকান ভাংচুর করতঃ ক্যাশ বক্স হইতে নগদ ১৫,০০০/- টাকা ১৩নং অভিযুক্ত মোঃ নজরুল (২৬) নিয়ে যায়। ১-২৫নং অভিযুক্ত সহ অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জন অভিযুক্ত বাদীর সঙ্গীয় মোঃ জামাল হোসেন সুমন (৩৩) এর মনিহারী দোকান, মোঃ বেলাল হোসেন হৃদয় (৩৬)’র চটপটি দোকান, মোঃ আলমগীর (৪০)’র বিরিয়ানী দোকান, শ্যামল চন্দ্র দাশ (৫৫)’র মুদি দোকান ভাংচুর করতঃ দোকানের জিনিসপত্র নষ্ট করিয়া সর্বমোট অনুমানিক ৩,০০,০০০/- টাকার ক্ষতি সাধন সহ লুটপাট করে। অভিযুক্তদের এহেন কর্মকান্ডে এলাকার লোকজন আগাইয়া আসিতে থাকিলে ৪নং অভিযুক্ত মোঃ জাহেদ (২২)’র হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে হিলভিউ মসজিদের সামনে এলাকার লোকজনদের ভীতি প্রদর্শন করার জন্য ফাঁকা ফায়ার করে। উক্তরূপ ঘটনায় বাদীর লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার মামলা নং-১৬,
পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সঙ্গীয় অফিসার ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করিয়া গত ১৪ জানুয়ারী ২০২৪ তারিখ সন্ধ্যার সময় শেরশাহ বাংলাবাজার এলাকা হইতে অভিযুক্ত সাব্বির হোসেন শাওন (২১) ও মোঃ শাকিল হোসেন প্রঃ রনি (২৪) দ্বয়কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তদ্বয়ের নিকট হইতে তাহাদের স্বীকারোক্তিমতে ঘটনার তারিখ ও সময় ঘটনাস্থলে প্রদর্শনকৃত ০১টি সিলভার রংয়ের এ্যালমুনিয়ামের তৈরী খেলনা পিস্তল উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে ১৪/০১/২০২৪ইং তারিখ দিবাগত রাত অর্থাৎ ১৫/০১/২০২৪ইং তারিখ সারা রাত অবিরত অভিযান পরিচালনা করিয়া অত্র থানাধীন বার্মা কলোনী এলাকা হইতে এজাহার নামীয় অভিযুক্তসহ মামলার ঘটনায় জড়িত তদন্তে প্রকাশিত আরো ১৫ (পনের) জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন বার্মা কলোনী সংলগ্ন ফাঁটা পাহাড় এর পাদদেশে মাটির নিচ হইতে ১০(দশ)টি ধারালো কিরিচ উদ্ধার পূর্বক জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করা হয়। অভিযুক্তদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাহারা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। বর্ণিত অভিযুক্তরা এলাকার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও কিশোরগ্যাং এর সদস্য। চাঞল্যকর অত্র মামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ আকারে ইলেকট্রনিক মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়ায় ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচার এবং প্রকাশ হয়। উক্ত অভিযুক্তদের কিশোরগ্যাং এর আধিপত্যের জন্য এলাকায় আতংক বিরাজ করিতেছে। গ্রেফতারকৃত প্রত্যেকটি অভিযুক্তের আতংকে ও ভয়ে থানা এলাকায় কেউ কোন মুখ খুলতে চায় না। তাহারা প্রতিবারেই জামিনে বের হয়ে পুনরায় একই অপরাধে জড়িত হয়। মামলার এজাহার নামীয় ০৭(সাত) জন ও মামলার ঘটনায় জড়িত তদন্তে প্রকাশিত ১০(দশ)সহ মোট ১৭(সতের) জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। থানার রেকর্ডপত্র ও সিডিএমএস যাচাইয়া করিয়া গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন থানায় মাদক, অস্ত্র, চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজী, বিস্ফোরক দ্রব্য, ডাকাতি প্রস্তুতি ও গণধর্ষণ মামলা পাওয়া যায়।
গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তরা হলেনঃ ১। সাব্বির হোসেন শাওন (২১), পিতা-আরমান হোসেন প্রঃ ওয়াসা বাবুল, মাতা-ময়না বেগম, সাং-শান্তিনগর, ননা মিয়া সিকদার বাড়ী, থানা-নোয়াখালী সদর, জেলা-নোয়াখালী, বর্তমানে-রুবি গেইট, ভালিকার মোড়, ওয়াসা বাবুলের বাড়ী, থানা-বায়েজিদ বোস্তামী, জেলা-চট্টগ্রাম, ২। মোঃ ইমরান (২৭), পিতা-মোঃ ইব্রাহিম, সাং-বার্মা কলোনী, ইব্রাহিমের বাড়ী, থানা-বায়েজিদ বোস্তামী, জেলা-চট্টগ্রাম, ৩। মোঃ নজরুল (২৬), পিতা-মৃত আব্বাস আলী, মাতা-রেখা বেগম, সাং-বার্মা কলোনী, দৌলত শাহ মাজারের পাশে, থানা-বায়েজিদ বোস্তামী, জেলা-চট্টগ্রাম, ৪। ইসমাইল উদ্দিন আকাশ (২৫), পিতা-মৃত আবুল কাশেম, মাতা-জরা বেগম, সাং-বার্মা কলোনী, জহুর আহমদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে, কাশেমের বাড়ী, থানা-বায়েজিদ বোস্তামী, জেলা-চট্টগ্রাম, ৫। মোঃ হাসান (২৬), পিতা-আব্দুল মান্নান, মাতা-মায়া বেগম, সাং-আলীনগর, ১নং রোড, তোফায়েল এর ভাঙ্গারী দোকানের পাশে, থানা-বায়েজিদ বোস্তামী, জেলা-চট্টগ্রাম, ৬। মোঃ সজিব (২৩), পিতা-মৃত মোঃ বাবুল, মাতা-সাহেনা বেগম, সাং-বার্মা কলোনী, পূর্ব পাড়া, ফরিদ মিয়ার বাড়ী, থানা-বায়েজিদ বোস্তামী, জেলা-চট্টগ্রাম, ৭। ইয়াসিন রায়হান হৃদয় প্রঃ বাবু (২৪), পিতা-কামাল হোসেন, মাতা-রেহেনা বেগম, সাং-চররহিতা, মিপ গাজীর বাড়ী, ৪নং ইউপি, থানা-লক্ষীপুর সদর, জেলা-লক্ষীপুর, বর্তমানে-হিলভিউ, ৬নং রোড, জামাল বিল্ডিং, থানা-পাঁচলাইশ, জেলা-চট্টগ্রাম, তদন্তে প্রাপ্ত ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত ৮। মোঃ রমজান (২২), পিতা-মোঃ ওসমান আলী, মাতা-ফাতেমা বেগম, সাং-পূর্ব কাঠঘর, সী বিচ এর পূর্ব পাশে, মৌলভীর বাড়ী, মৌলভীর দোকান, ৪নং ওয়ার্ড, ১১নং কালিয়াইশ ইউপি, থানা-সাতকানিয়া, জেলা-চট্টগ্রাম, বর্তমানে-বাস্তুহারা, কালি বুড়ির কলোনী, থানা-বায়েজিদ বোস্তামী, জেলা-চট্টগ্রাম, ৯। মোঃ শাকিল হোসেন প্রঃ রনি (২৪), পিতা-সিরাজুল ইসলাম সবুর প্রঃ তারা মিয়া, মাতা-ইয়াসমিন বেগম, সাং-শিশাটোলা, কালু মেকারের বাড়ী, থানা-গোমস্তাপুর, জেলা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বর্তমানে-বাংলা বাজার, ডেবারপাড়, ১নং গলির পিছনে, আনোয়ার কলোনী, থানা-বায়েজিদ বোস্তামী, জেলা-চট্টগ্রাম, ১০। মোঃ হাবিব (৩৯), পিতা-মৃত আজিজুল হক, মাতা-মৃত সকিনা বিবি, স্ত্রী-রুবি বেগম, সাং-বার্মা কলোনী, মসজিদের পাশে, বদ্দ রহমানের বাড়ী, থানা-বায়েজিদ বোস্তামী, জেলা-চট্টগ্রাম, ১১। মোঃ রাসেল (২২), পিতা-মৃত ইউসুফ, মাতা-হাসিনা বেগম, সাং-হাজিনা মন্দির, হাসিনার বাড়ী, থানা-মহেশখালী, জেলা-কক্সবাজার, বর্তমানে-বার্মা কলোনী, সেলিমের বাড়ী, থানা-বায়েজিদ বোস্তামী, জেলা-চট্টগ্রাম, ১২। ইমরান হোসেন (৩০), পিতা-মোতাহের হোসেন, মাতা-নুরবানু, সাং-বার্মা কলোনী, নুর বানুর বাড়ী, হাজী হোসসান এর বাড়ীর পাশে, থানা-বায়েজিদ বোস্তামী, জেলা-চট্টগ্রাম, ১৩। মোঃ ইমন (২২), পিতা-মৃত জয়নাল, মাতা-মৃত আমেনা বেগম, স্ত্রী-আছমা আক্তার, সাং-নানুপুর, কালু সর্দারের বাড়ী, নাজিরহাট, থানা-হাটহাজারী, জেলা-চট্টগ্রাম, বর্তমানে-বার্মা কলোনী, বদ্দ রহমানের বাড়ী, থানা-বায়েজিদ বোস্তামী, জেলা-চট্টগ্রাম, ১৪। আরিফুল ইসলাম (৩০), পিতা-আবুল কালাম আজাদ, মাতা-আমেনা বেগম, সাং-বার্মা কলোনী, আমেনার বাড়ী, থানা-বায়েজিদ বোস্তামী, জেলা-চট্টগ্রাম, ১৫। মোঃ মানিক (৩৫), পিা-মৃত মফিজুর রহমান, মাতা-জাহানারা বেগম, সাং-পদুয়া, আক্তারুজ্জামান ভূঁইয়া বাড়ী, থানা-সোনাইমুড়ী, জেলা-নোয়াখালী, বর্তমানে-বার্মা কলোনী, জাফর আহমদ এর বাড়ী, থানা-বায়েজিদ বোস্তামী, জেলা-চট্টগ্রাম, ১৬। মোঃ সুমন (২৯), পিতা-ইউনুস, মাতা-জামেনা বেগম, স্ত্রী-কল্পনা বেগম, সাং-শিবপুর, মলং বাড়ী, থাানা-লাখাই, জেলা-হবিগঞ্জ, বর্তমানে-আমিন কলোন, জিএম জাহাঙ্গীরের দোকানের সামনে, মাসুদ এর কলোনী, থানা-বায়েজিদ বোস্তামী, জেলা-চট্টগ্রাম, ১৭। মোঃ মনির হোসেন (২৪), পিতা- আব্দুল জলিল, মাতা- জাহানারা বেগম প্রঃ জানু বেগম, সাং- বার্মা কলোনী, আব্দুল জলিলের বাড়ী, থানা- বায়েজিদ বোস্তামী, জেলা- চট্টগ্রাম।