জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার কাদোয়া বটতলী এলাকার একটি নির্জন কলাবাগান থেকে আগুনে পোড়া অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় মিলেছে। নিহতের নাম ছামছুল আলী খলিফা (৫৭)। তিনি নওগাঁ সদর উপজেলার শৈলগাছী উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও মৃত উম্মুর খলিফার ছেলে।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে আক্কেলপুর-তিলকপুর সড়কের পাশে কাদোয়া বটতলীর কলাবাগানে। স্থানীয়রা আগুন দেখে দমন করতে গিয়ে একটি অর্ধদগ্ধ মরদেহ খুঁজে পায়। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে রাত আড়াইটার দিকে থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
আক্কেলপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, মরদেহের পাশে পাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরে নিহতের ছোট ভাই মুজাহিদ খলিফা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ শনাক্ত করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কলাবাগানটি মালিকানাধীন আহসান হাবিব নামের এক ব্যক্তির, যিনি বর্তমানে নওগাঁয় বসবাস করছেন। জায়গাটি বিকাশ দেবনাথ নামে এক কৃষক লিজ নিয়ে কলা চাষ করছেন। মঙ্গলবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে তিনি পাশের পুকুরে মাছের খাবার দিতে গিয়ে কলাবাগানের ভেতরে আগুন দেখতে পান। আগুনে একজন মানুষের দেহ পুড়তে দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আশপাশের লোকজন ডেকে এনে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তখনই পোড়া মরদেহটি চোখে পড়ে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
নিহতের পরিবারের বরাতে জানা গেছে, ছামছুল আলীর সঙ্গে স্ত্রী রশিদা বেগম ও ছেলে রাসেল খলিফার দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। এমনকি কয়েকবার তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনও করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ছামছুল আলী সম্প্রতি নওগাঁ সদর থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন। অভিযোগের কয়েকদিন পরই তিনি নিখোঁজ হন। মঙ্গলবার দুপুর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
ছামছুল আলীর ভাই মুজাহিদ খলিফা বলেন, পারিবারিক কলহের কারণেই আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। আমার ভাইয়ের ছেলে ঘটনার পর থেকে ফোন বন্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছে। আমি দ্রুত এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
আক্কেলপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মমিনুল ইসলাম জানান, মরদেহের মাথা ও শরীরের অর্ধেক পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোথাও হত্যার পর মরদেহ কলাবাগানে এনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।