ঝিনাইদহে সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষের হামলায় মোশারফ হোসেন(৫৫) নামে একজন নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ৬ জন। বুধবার (৩০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার ফুরসুন্ধি ইউনিয়নের দিঘীর পাড় গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের ঝিনাইদহ আড়াইশ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত মোশারফ হোসেন দিঘীর পাড় গ্রামের শমসের বিশ্বাসের ছেলে ও বিএনপি দলীয় সামাজিক নেতা। আহতরা হলো দিঘীরপাড় গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৫), আবুল কালামের ছেলে নাহিদ (৩৫) শমসের বিশ্বাসের ছেলে মিজানুর রহমান (৭৫), জাহেদের ছেলে মোহাম্মদ আলী(৫০), মোশারফ হোসেনের ছেলে আনিচুর রহমান(৩৫) ও শমসের বিশ্বাসের ছেলে মতিয়ার রহমান(৫০)। আহত আনিচুর রহমান বলেন, কয়েকদিন আগে প্রতিপক্ষ গ্রুপের লোকজন দিঘীর পাড় গ্রামের উত্তরপাড়ার তোতার ছেলে ক্যান্সার আক্রান্ত মুকুলকে মারধর করে। সেই ঘটনার জেরে মুকুলের সমাজের লোকজন তাদের বাড়িঘর ভাংচুর করে। সেই থেকে উত্তেজনা চলে আসছে। আজ(বুধবার) সকালে তারা নারিকেলবাড়িয়া ক্যাম্পের পুলিশ নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। হামলা চালিয়ে আমার বাবা মোশারফ হোসেনকের বুকের ডানপাশে ও দুইপায়ে কুপিয়ে জখম করে। আমার বাবা মারা গেছে। আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে এসেছে। সোহরাব হোসেন বলেন, সোমবারে বাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় আগামীকাল(বৃহস্পতিবার ) সন্ধ্যায় জেলা বিএনপির সভাপতির সাথে উভয় পক্ষের বসার কথা ছিল। কিন্তু এরমধ্যে আজ সকালে হামলা চালিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। দিঘীর পাড় গ্রামের আমিন উদ্দিন ও কওসার আলী মোল্লার সমাজের মধ্যে কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড: এমএ মজিদ বলেন, সামাজিক আধিপত্য বিস্তারের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সাথে জড়িতরা কেউই বিএনপির কোন নেতা নয়। তবে, যারাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের সর্বচ্চো শাস্তির দাবি জানাই। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনাস্থালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল তদন্ত করা হয়েছে। মামলা হবে। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।