নাস্তায় আমাদের অপরিহার্য একটি খাবার হচ্ছে ডাল-রুটি। অন্য খাবার থাক বা না থাক এটি নাস্তার তালিকায় থাকবেই! ইদানীং অনেকে রাতের বেলায়ও ডাল-রুটি খাওয়া শুরু করেছেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে এই খাবার কি আসলে স্বাস্থ্যকর? একসঙ্গে খেলে কী হতে পারে? এমন অনেক খাবার আছে, যা সাধারণ মনে হলেও তাতেই রয়েছে যত সমস্যা। এর ফলে বারোটা বাজছে আপনার অন্ত্রের! এই তালিকায় আছে ডাল-রুটিও।
এ ছাড়া এমন আরো ৪টি খাবার রয়েছে, চলুন সেগুলো জেনে নিই—
ডাল ও রুটি
এই দুটি এমনিতে শরীরের জন্য ভালো হলেও একসঙ্গে খাওয়া উচিত নয়। এতে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ফাইবার শরীরে যায়। ডাল ও রুটি দুই খাবারে আছে জটিল কার্বোহাইড্রেট ও দ্রবণীয় ফাইবার। একসঙ্গে বেশি পরিমাণে খেলে খাবার অন্ত্রে দীর্ঘ সময় ধরে থাকে।
হজমে সময় লাগে। ফলে গ্যাস ও পেট ভারের মতো সমস্যা দেখা দেয়। একসঙ্গে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার বেশি খেলে হজমের সময় ১৫-২০ শতাংশ বেড়ে যায়।
চা ও পাকোড়া
সন্ধ্যার নাস্তা হিসেবে চা-পকোড়া বা তেলেভাজার একটা আলাদা জনপ্রিয়তা রয়েছে।
এটাই কিন্তু এসিডিটির জন্য একদম আদর্শ খাবার। চায়ে ট্যানিন থাকে, যা আয়রন শোষণে সমস্যা তৈরি করে। ভাজা খাবারে প্রচুর পরিমাণে অক্সিডাইজড ফ্যাট থাকে, যা গ্যাস্ট্রিক এসিড নিঃসরণ বাড়ায়। গরম চায়ের সঙ্গে ভাজা খেলে তাই এসিডিটির সমস্যাও বেড়ে যায়।
রাতের খাবারের সঙ্গে দই
দই শরীরের জন্য ভালো।
প্রো-বায়োটিকের ভালো উৎস। তবে ভুল সময়ে খেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এ ছাড়া রাতে এটি খেলে এর কার্যকারিতা কমে যায়। সূর্যাস্তের পর পাচনতন্ত্রের এনজাইমের কার্যকলাপ ধীর হয়ে যায়। ফলে দুগ্ধজাত প্রোটিনের হজমের গতিও কমে যায়। রাতে দই খেলে শ্লেষ্মা তৈরি হয়, যার ফলে হজমের গতি কমে যায়। দুপুরের দই খাওয়া ভালো। রাতে হালকা স্যুপ বা সালাদ জাতীয় খাবার খান।
খাবারের ঠিক পরে ফল
খাবারের পরে ফল খাওয়ার অভ্যাস আছে অনেকেরই। তবে খাবারের পরপরই খেলে এর প্রাকৃতিক শর্করার ফলে গ্যাস ও পেট ফাঁপার সমস্যা দেখা দেয়। খাবারের পর ফ্রুক্টোজ শরীরে গেলে অন্ত্রের গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। খাওয়ার ১-২ ঘণ্টা পরে ফল খেলে কোনো সমস্যা নেই।
সূত্র : এই সময়