অপরুপ সৌন্দর্যের জেলা বান্দরবানের পাহাড়ি এলাকায় দিনের আলোয় প্রকাশ্যে চলছে বনের গাছ কেটে মাইনুদ্দিনের পাচারের মহোৎসব। জেলা সদরে সেমির মুখ–গোয়ালিয়া খোলা, ডলুপাড়া, মেঘলা তালুকদার পাড়া হয়ে রেইচা সড়ক দিয়ে সাতকানিয়ার কেরানিহাট পর্যন্ত দোপাছড়ি হয়ে নিয়মিত পাচার হচ্ছে প্রাকৃতিক বনের মূল্যবান কাঠ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন অন্তত ৪ থেকে ৫টি ট্রাক ও মিনি ট্রাকে করে এসব জোত পারমিট বিহীন কাঠ পাচার করা হচ্ছে। বান্দরবান সদরের কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর সহযোগিতায় এই অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে “ম্যানেজ” করে দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই চোরাই কাঠ বাণিজ্য । এবং বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে কোন বন বিভাগের কর্মকর্তাকে বনখেকো মাইনুদ্দিন কাউকে পাত্তা দিচ্ছে না, নির্বিচারে বন ধ্বংসের কারণে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার প্রকৃতি ও পরিবেশ।
এলাকায় সরজমিনে গেলে দেখা যায়, দিন-দুপুরে নির্বিচারে গাছ কেটে কাঠ পাচার করা হচ্ছে।এলাকাবাসীর দাবি, বান্দরবানের স্থানীয় প্রভাবশালী কাঠ ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় এই বনখেকো মাইনুদ্দীনের অবৈধ কাঠ পাচার করে যেতেন এই মূল হোতা। তিনি কোনো বৈধ জোত পারমিট ছাড়াই বছরের পর বছর বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে পাচার করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আরো জানা যায়, ২৪ সালে ৫ই আগস্ট এর পরে এই বন খেকো মাইনুদ্দিন নিজেকে সমন্বয়ক পরিচয় দিতেন, এখন আবার নিজেকে ছাত্রদলের নেতা পরিচয় দেন, কোন কোন সময় সিনিয়র যুবদলের নেতার আত্মীয় পরিচয় দেন এভাবেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে যাওয়া সহজ মনে করেন।
সেমিডলু পাড়া ও গোয়ালিয়াখোলা বিভিন্ন এলাকায় গাছ কাটার শ্রমিক রহিম জানান, তিনি প্রতিদিন ৭০০ টাকা মজুরিতে গাছ কাটার কাজ করেন।
অন্যদিকে, পাশের একটি বাগানে ১০–১২ জন শ্রমিককে গাছ কাটতে দেখা যায়। সেখানে শ্রমিক মো.রফিক এ বিষয়ে বলেন,
এই বাগানটি মাইনুদ্দিনের নির্দেশে কাটা হচ্ছে। তার কাছে বন বিভাগের কোনো বৈধ কাগজপত্র আছে কি না, আমরা জানি না।
এ বিষয়ে আরো সেমির মুখ–গোয়ায়ালিয়া খোলা সড়কে কাঠবোঝাই ট্রাকের চালক জামাল বলেন,গাছগুলো ডলুপাড়া বাগান থেকে আনছি। প্রতিদিন প্রায় ৪-৫ টি গাড়ি কাঠ পরিবহন করি। আমি শুধু গাড়ি চালাই, ভাড়ায় কাজ করি।
এ বিষয়ে বান্দরবানের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি জানতে পারলাম মাঝেমধ্যে মধ্যরাতে কেবা কারা অবৈধ গাছের গাড়ি পাচার করে। এবং গোয়ালিয়াখোলা, রেইছা , মেঘলা তালুকদার পাড়া এলাকা থেকে কাঠ পাচারের বিষয়টি আগে জানা ছিল না। এখন রেঞ্জ অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবৈধ কাঠ পাচারে জড়িতদের যেন কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া না হয়।
বান্দরবানের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, আমরা যেভাবে বনের কাঠ কেটে ফেলি সেভাবে যদি আমরা আবার রোপন করি তাহলে আমাদের এই বন সম্পদ কখনো উজার বা শেষ হবে না।
প্রাকৃতিক বনভূমি ধ্বংসের ফলে পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। পরিবেশবিদদের মতে, এভাবে বন উজাড় চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যেই পাহাড়ি এলাকায় পানি সংকট ও ভূমিধসের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যাবে।
বান্দরবানের বনের গাছ দেশের সম্পদ। প্রশাসনের নজরদারি ও বন বিভাগের কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া এই অবৈধ কাঠ পাচার রোধ করা সম্ভব নয়। এখনই পদক্ষেপ না নিলে হারিয়ে যাবে পাহাড়ের সবুজের হৃদয়।