দেশের খবর

দেবীগঞ্জে সিজারে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধ অপারেশন থিয়েটার

 
 
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান জন্মের ১০ ঘণ্টা পরেই কৃষ্ণা রানী নামে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধ করে দেয়া হলো  অবৈধ ভাবে পরিচালিত অনুমোদন বিহীন ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটার। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তারা অপারেশন কার্যক্রম চালাতে পারবেনা। 
দেবীগঞ্জ স্কয়ার ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের গাফিলতি, ক্লিনিকে ডাক্তার না থাকা ও জরুরি অবস্থায় পর্যাপ্ত সেবা প্রদানে সক্ষমতা না থাকার পরেও তারা একের পর এক প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন করতো। সে সব অভিযোগের কারনেই কৃষ্ণা রানী নামের এক প্রসূতি নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। 
অপারেশন করা চিকিৎসকের নাম ডাঃ শিখা মনি ও ডাঃ রুহুল আমিন রুপু। তাদের চিকিৎসা সনদ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে অনেকের।
স্থানীয়রা বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদেরকে নানা ভাবে চাপ প্রয়োগ করে মিমাংসা করা হয়েছে। তাদেরকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আপোষ করা হয়েছে বলেও গুজন শুনা যাচ্ছে। 
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাত তিনটার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে নেয়ার পথে এলাকায় কৃষ্ণা রানীর মৃত্যু হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে পৌর এলাকায় করতোয়া সেতু টোল পয়েন্ট সংলগ্ন দেবীগঞ্জ স্কয়ার ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কৃষ্ণা রানীর সিজারিয়ান অপারেশন হয়। অপারেশনের পর রাত ৩টা পর্যন্ত তিনি সেখানেই ভর্তি ছিলেন। 
কৃষ্ণা রানীর বাবার বাড়ি দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের তেলীপাড়া প্রেমবাজার এলাকায়। তার স্বামীর নাম ধর্ম নারায়ণ রায়।
স্কয়ার ক্লিনিকে ভর্তি করানোর পর পরীক্ষা নিরীক্ষার পর বিকালের দিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয় কৃষ্ণা রানীকে।
সেখানে সিজারিয়ান অপারেশনটি সম্পন্ন করেন ডা. শিখা মনি। অপারেশন করার পরে কৃষ্ণা রানী সেখানে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। অপারেশন শেষে কৃষ্ণা রানীকে বেডে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই শারীরিক জটিলতা শুরু হয়। পেট ফুলে যাওয়া, পা ব্যথাসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। সমস্যা থাকাবস্থায়তেই রাত ২টা পর্যন্ত ক্লিনিকে রাখা হয়। এরপর রোগীর অবস্থার অবনতি হতে থাকলে কৃষ্ণা রানীর পরিবারের সদস্যদেরকে রংপুরে নিয়ে যেতে বলা হয়। রংপুরে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
 
কৃষ্ণা রানীর শাশুড়ী কনিকা রায় বলেন, চিকিৎসক শিখা মনির অবহেলার কারনেই আমার বৌমার মৃত্যু হয়েছে। এখন নাতনি আছে কিন্তু আমার বউমা নেই। ক্লিনিকের মালিক ও চিকিৎসকের উপযুক্ত বিচার চাই। আর কোন মায়ের যেন এরকম মৃত্যু না হয়।
 
কৃষ্ণা রানীর স্বামী ধর্ম নারায়ণ বলেন, ডাক্তারের অবহেলার কারনেই আমার স্ত্রী কৃষ্ণা রানী মারা যায়। ডাক্তারের উপযুক্ত বিচার চাই আর অবৈধ ক্লিনিক বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি। 
 
ইতিপূর্বেও দেবীগঞ্জ স্কায়ার ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম নেয়া অন্তত তিনটি নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। প্রতিটি শিশুর শারীরিক জটিলতা শুরু হওয়ার পর রংপুর কিংবা ঠাকুরগাঁওয়ে রেফার্ড করা হয়েছিল।
 
অপারেশন করা চিকিৎসক ডাঃ শিখা মনির পিতা ও দেবীগঞ্জ স্কয়ার ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক শহিদুল ইসলাম বাবুল মুঠোফোনে বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা আমাদের ক্লিনিকে আসছিল। তারা বলছে আমাদের কোন অভিযোগ নাই। তবে শিশুর যদি কোন সমস্যা দেখা দেয় তাহলে তাকে যেন বিনা খরচে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়।
 
দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমন ধর বলেন, সিভিল সার্জনের নির্দেশে আমরা স্কয়ার ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটার বন্ধ করে দিয়েছি। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তারা অপারেশনের কার্যক্রম চালাতে পারবেনা। সিভিল সার্জনের নির্দেশ পেলে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডাঃ মিজানুর রহমান বলেন, আমরা আপাতত ক্লিনিকের অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছি। ভুক্তভোগীর পরিবারকে আমরা থানায় বা বিএমডিসি তে অভিযোগ জানাতে বলছি। তারা অভিযোগ দিলে আমরা তাদেরকে সব ধরনের সহযোগিতা করবো। 
 


সম্পর্কিত খবর