নদী, জলসম্পদ, বন ও জলজ প্রতিবেশ রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশ ও নদী বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলার পাশাপাশি নদী ও প্রকৃতি রক্ষায় টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘নদী বাঁচাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), রিভার বাংলা ও আরো ৩৫টি সংগঠন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার। রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন লেখক ও গবেষক কাজল রশীদ শাহীন, নদী গবেষক ও বিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন, পশুর রিভার ওয়াটারকিপার নুর আলম শেখ, সাংবাদিক ও লেখক আমীন আল রশীদ, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র এবং কোস্ট ফাউন্ডেশনের প্রকল্প প্রধান আবুল হাসান।
সভাপতির বক্তব্যে মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, নদী জাতীয় সম্পদ ও জনসাধারণের সম্পদ। নদীর প্রবাহ ও জলাধার রক্ষা ছাড়া মানুষ, জীববৈচিত্র্য ও সভ্যতা রক্ষা সম্ভব নয়। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবর্তে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের কাজ পরিকল্পিত ও ধাপে ধাপে করতে হবে।
একই সঙ্গে নদী ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নদী দখলমুক্ত করা এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
কাজল রশীদ শাহীন বলেন, নদী বাঁচাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। শুধু ঘোষণা দিলেই হবে না, নদী ও প্রকৃতি রক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির টেকসই বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে নদীর প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধও বাড়াতে হবে।
শেখ রোকন বলেন, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে আরও পরে করার সুযোগ নেই। ক্ষতিকর জ্বালানি ও অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে যেতে হবে।
নুর আলম শেখ বলেন, নদী, বন ও পানি রক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যেতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে টেকসই ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে নদী ও জলজ প্রতিবেশের ওপর দূষণের চাপ কমার পাশাপাশি মানুষের জীবন-জীবিকাও সুরক্ষিত হবে।
আমীন আল রশীদ বলেন, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় বহুমুখী পরিকল্পনা প্রয়োজন। তবে নদী ও পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো উন্নয়ন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নয়ন ও পরিবেশের সংঘাত কমাতে হবে।