জাতীয়

নরসিংদীতে ১ বছর পর ফিরোজ হত্যার রহস্য উন্মোচন,কিশোর গ্যাং এর ২ সদস্য আটক

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার তাতারকান্দা এলাকায় এক বছর তিন মাস আগে সংঘটিত ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ফিরোজ মিয়ার হত্যাকাণ্ডের রহস্য অবশেষে উদঘাটন করেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের দুই সদস্যকে। তাদের দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা, চাপাতি ও ছোরা।
 
পুলিশ জানায়, গত ২০২৪ সালের মার্চ মাসে তাতারকান্দা জান্নাতুল বাকী জামে মসজিদের পাশের সড়কে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে আহত হন ফিরোজ মিয়া। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরদিন নিহতের পরিবার শিবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে (মামলা নম্বর: ১১(০৩)২৪)।
 
তবে দীর্ঘ এক বছর তিন মাস ধরে মামলাটির কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি ছিল না। এর মধ্যে চারবার তদন্ত কর্মকর্তার বদল হয়। অবশেষে শিবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাদিকুর রহমান ও এসআই রেজাউল করিম প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় কালুয়ারকান্দা গ্রামের দুই সন্দেহভাজন জহিরুল মিয়া (২৫) ও আমিন মিয়া (২৪)-কে শনাক্ত করে গ্রেফতার করেন।
 
গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দেখানো মতে ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি, দা ও ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
 
এ প্রসঙ্গে শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন বলেন, “মামলাটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। দীর্ঘদিন কোনো কার্যকর অগ্রগতি না থাকলেও আমরা থেমে থাকিনি। শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তি ও সোর্সের মাধ্যমে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।”
 
নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান বলেন, “এই ঘটনার উদঘাটনই প্রমাণ করে—অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। আমরা কিশোর গ্যাংসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। অচিরেই চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।”
 
পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডে আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছে। তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।


সম্পর্কিত খবর