রংপুর

পঞ্চগড়ে স্বাস্থ্য বিভাগে চিকিৎসক সংকট চরমে ২৪৬টি পদের বিপরীতে ১৭৪টি পদই শূন্য

পঞ্চগড় সিভিল সার্জন কার্যালয়, আধুনিক সদর হাসপাতাল ও ৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪৬টি চিকিৎসকের পদ রয়েছে। এসব পদের বিপরীতে খাতাকলমে রয়েছে ৭২ জন চিকিৎসক, তবে বাস্তবে কর্মরত মাত্র ৬৪ জন। অর্থাৎ চিকিৎসকের ১৭৪টি পদই শূন্য। কর্মরত ৭২ জন চিকিৎসকের মধ্যেও ৮ জন অনুপস্থিত রয়েছেন। মেডিসিন, অর্থোপেডিকস, নাক-কান-গলা, চক্ষু ও গাইনি বিভাগে কোনো চিকিৎসক নেই। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় এসব বিভাগের রোগীদের উন্নত সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে তাঁরা উন্নত চিকিৎসার জন্য পাশের জেলায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

শূন্য পদগুলোর মধ্যে জ্যেষ্ঠ (সিনিয়র) কনসালট্যান্টের ৪টি, কনিষ্ঠ (জুনিয়র) কনসালট্যান্টের ৪৮টি এবং মেডিকেল অফিসার/সহকারী সার্জনের ১২১টি পদ খালি রয়েছে।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ২ জন চিকিৎসক কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলছে। দুজনের মধ্যে একজন ২০২৫ সালের ১২ মার্চ থেকে এবং অন্যজন দেড় বছর ধরে অনুপস্থিত। ১ জন চিকিৎসক ২ মাসের বনিয়াদি (ফাউন্ডেশন) প্রশিক্ষণে রয়েছেন, ১ জন সাময়িক বরখাস্ত এবং অন্য ১ জন সিভিল সার্জন কার্যালয়ে প্রাক্কলিত পদে কর্মরত।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) পদেও বর্তমানে কেউ দায়িত্বে নেই। যিনি ছিলেন, তিনি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত থাকায় নতুন করে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চগড়ে এই চিকিৎসক সংকট ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব থাকায় সাধারণ মানুষকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল ও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। এর ফলে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষকে গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ, অপচয় হচ্ছে মূল্যবান সময়।

পঞ্চগড় সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ৬৩টি চিকিৎসকের পদের বিপরীতে রয়েছেন ১৯ জন, শূন্য রয়েছে ৪৪টি পদ।

আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ৪০টি পদের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র ৭ জন, শূন্য ৩৩টি। বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪২টি পদের বিপরীতে রয়েছেন ২০ জন। এর মধ্যে ২ জন চিকিৎসক সরকারি আদেশে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংযুক্ত রয়েছেন এবং ৩ জনের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকার কারণে বিভাগীয় মামলা চলমান। ফলে সেখানে শূন্য পদ ২২টি।

দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪৪টি পদের বিপরীতে ১০ জন কর্মরত, সংকট ৩৪টি পদে। তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪০টি পদের বিপরীতে রয়েছেন ৮ জন, সংকট ৩২টি পদে।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে ১৪টি পদের বিপরীতে চিকিৎসকের ৬টি পদ পূর্ণ ও ৮টি শূন্য রয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ৩টি পদের বিপরীতে ১ জন কর্মরত এবং ২টি শূন্য।

পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান জানান, "আমরা চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছি। সদর হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং চলতি মাসেই কিছু চিকিৎসক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।"

তিনি আরও বলেন, "মেডিসিন, অর্থোপেডিকস, নাক-কান-গলা, চক্ষু ও গাইনি বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকার কারণে আমরা রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছি না।"

 


সম্পর্কিত খবর