বাঁশখালীতে অগ্নিকাণ্ডে ১৩ বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ১৩ বসতঘরের সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ৫০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। এ ঘটনায় ছালেহা বেগম নামে এক গৃহবধূ আহত হয়েছেন। তাকে বাঁশখালী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জনগনের অভিযোগের ভিত্তিতে সন্দেহজনক মোহাম্মদ বাবুল (২৫) নামে এক যুবককে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের পশ্চিম চাম্বল জয়নগর পাড়া এলাকায় ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের দু'টি টিম পৌঁছালেও ততক্ষণে সর্বস্ব পুড়ে যায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
জানা গেছে, বাঁশখালীর পশ্চিম চাম্বল জয়নগরপাড়া এলাকার হারুনুর রশীদ ওরফে হারুন বৈদ্য’র ছেলে বাবুলের সাথে প্রতিবেশী রেজাউল করিমের স্ত্রীর সাথে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এনিয়ে রেজাউল করিমের পরিবারের সাথে বাবুলের বিরোধ চলে আসছিল। এনিয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে ঝগড়াঝাটির একপর্যায়ে প্রকাশ্যে যুবক বাবুল রেজাউল করিমের ঘরে অগ্নিসংযোগ ঘটানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে নিভৃত করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এর জের ধরে বুধবার ভোর রাতে ওই যুবক রেজাউল করিমের বসতঘরে আগুন দেন। আগুনের লেলিহান শিখা আশেপাশের বসতঘরে ছড়িয়ে পড়লে মুহুর্তেই আশপাশের ১৩ বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বর্তমানে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ পরিবারের সদস্যরা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।
ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন পশ্চিম চাম্বল এলাকার লেদু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ মিয়া, মোহাম্মদ এহছান, সিরাজ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ কালু, নবাব আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, মো. ইসমাঈল, মোহাম্মদ ইসহাক, কালু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ করিম, ইসলাম মিয়ার ছেলে মো. জামাল উদ্দিন, মোহাম্মদ কবির, আবদুস সাত্তার, আবদুস ছবুর, আবদুল্লাহর ছেলে হারুনুর রশীদ এবং হারুন বৈদ্য।
ক্ষতিগ্রস্ত মোহাম্মদ কালুর স্ত্রী রোজিনা বেগম জানান, আমার পরনের কাপড় ছাড়া সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমার স্বামী ফিশিং ট্রলারে কাজ করেন। তিনি কিস্তি পরিশোধের জন্য ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। টাকাগুলো উদ্ধার করতে গিয়ে আমার মুখে আগুন লাগে। কিন্তু টাকা উদ্ধার করতে পারিনি। হারুন বৈদ্যর ছেলে বাবুল এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
গাড়ি রক্ষা করতে গিয়ে আহত ছালেহা বেগম জানান, কিস্তির টাকায় একটি অটোরিকশা কিনেছিলাম। এটি ছিল আমার একমাত্র সম্বল। গাড়িটি আগুন থেকে রক্ষা করতে গিয়ে আমার কপালের একাংশ পুড়ে গেছে। কিন্তু গাড়ি রক্ষা করতে পারিনি।
চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার শহিদ উল্লাহ জানান, ঝগড়ার এক পর্যায়ে বাবুল নামের এক যুবক বসতবাড়িতে আগুন দেন বলে গ্রামবাসী আমাকে জানিয়েছে।
জনরোষ থেকে বাঁচাতে পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে গেছে।
বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল স্টেশনের ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছি। আমাদের আলাদা দু'টি টিম আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় আমাদের গাড়ি পৌঁছাতে দেরি হয়েছে।
বাঁশখালী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচাতে বাবুল নামের এক যুবককে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি নাশকতা কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দেয়নি।
বায়ান্ন/প্রতিনিধি/পিএইচ