হবিগঞ্জের মাধবপুর থানা সভাকক্ষে একটি শালিসে দুপক্ষের সংঘর্ষে পুলিশ পরিদর্শক, ২ উপ-পরিদর্শক, ৩ কনস্টেবলসহ ১৫ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার (১৪ জুলাই) বেলা ১১টায় মাধবপুর থানা সভাকক্ষে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) আতিকুর রহমান, এসআই মানিক কুমার সাহা, এসআই শুভ দে, পুলিশ কনস্টেবল আশরাফুল ইসলাম, আব্দুল জলিল, আহসান হাবিব, মাধবপুর উপজেলা প্রেসক্লাব আহ্বায়ক এরশাদ আলী, ইউপি সদস্য বেনু মিয়া, ইউপি সদস্য মর্তুজ আলী, বেজুড়া গ্রামের সানাউল্লা, একই গ্রামের গেদু মিয়া ও কামাল মিয়া।
সংঘর্ষের সময় উভয়পক্ষ সভা কক্ষের ভেতরে প্লাস্টিক চেয়ার ও পাথর নিক্ষেপ করে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। থানার ভেতরে এরকম মারামারির ঘটনায় মাধবপুরে প্রথম ঘটল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ থেকে সরকারি অর্থায়নে বেজুড়া গ্রামে জজ মিয়ার বাড়ির সামনে গাইডওয়াল নির্মাণের জন্য পুকুর পাড়ে ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই গ্রামের লাল খার ছেলে হেলাল মিয়া গাডওয়াল নির্মাণে আপত্তি জানান। পরে জায়গা বদল করে রইস আলী পুকুরের পাড়ে গাডওয়াল নির্মাণের জন্য জায়গা নির্বাচন করা হয়। রইস আলী পুকুর সেচ দিয়ে গাডওয়াল নির্মাণ করতে চাইলে হেলাল মিয়া আবার এতে বাধা দেন। এ ঘটনায় হেলাল মিয়া বেজুড়া গ্রামের রইস আলীর ছেলে আলেফ খাকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুক্রবার বেলা ১১টায় পুলিশ পরিদর্শক আতিকুর রহমান থানা সভাকক্ষে উভয় পক্ষকে নিয়ে শালিস বৈঠকে বসেন। বৈঠক চলাকালে ইউপি সদস্য আরজু মিয়া মেম্বার ও সিরাজ আলীর মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে সভাকক্ষের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ভেঙে ও পাথর ছুড়ে মারামারিতে লিপ্ত হয়। তাদের হামলায় এসময় পুলিশের পরিদর্শক আতিকুর রহমানসহ ৫ পুলিশ আহত হন।
মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বেজুড়া গ্রামের গাইডওয়াল নিয়ে বিরোধের ঘটনায় উভয়পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছিল। তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাধবপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে। আটককৃতদের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।