জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা বিশ্বাস করি জনগণই হচ্ছে সকল ক্ষমতার উৎস। দেশের মালিক হচ্ছেন আপনারা। মালিক যদি সঙ্গে থাকে, তাহলে আমরা যেকোনো পরিকল্পনা সফল করতে পারব। সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুরের কাহারোলের সাহাপাড়া খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন শেষে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেই বাসে করে খাল খননে প্রধানমন্ত্রী : এর আগে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে বিমানে করে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সড়কপথে গাড়িবহর নিয়ে দিনাজপুরের কাহারোলের সাহাপাড়া খাল এলাকায় উপস্থিত হন। তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে নির্বাচনের সময় ব্যবহৃত ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ লেখা বাসে করে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাঁকে বিপুল সংবর্ধনা জানান।
প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর তিনি নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই খাল খনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের রাজনীতি হচ্ছে কৃষকের উপকার করা, মা-বোনদের স্বাবলম্বী করে তোলা। আমাদের রাজনীতি হচ্ছে এলাকার মানুষ, গ্রামের মানুষ কীভাবে ভালো চিকিৎসা পেতে পারে, সেই ব্যবস্থা গড়ে তোলা। আমাদের সন্তানেরা কীভাবে লেখাপড়া করে মানুষ হতে পারে এবং কীভাবে মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে, সেটিই আমাদের রাজনীতি। কিন্তু এই কাজগুলো করতে হলে আমি একা পারব না। নির্বাচনে যেমন আপনারা ধানের শীষের সঙ্গে ছিলেন, এখনো আপনাদের সমর্থন ছাড়া দেশ উন্নয়নের কাজ করা সম্ভব নয়। সাহাপাড়া খাল ঘিরে ভাবনা : প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সাহাপাড়া খাল খনন প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খালের সুবিধা পাবে প্রায় ৩৩ হাজার কৃষক। প্রায় ১২০০ হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে। এ এলাকার সাড়ে ৩ লাখ মানুষ খালের পানি বিভিন্নভাবে ব্যবহার করতে পারবে। তিনি বলেন, পুরো খাল খনন করা গেলে বর্তমানের চেয়ে প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন বেশি ফসল উৎপাদন হবে। খালের পাশে প্রায় ৭ হাজার গাছ রোপণ করা হবে এবং যাতায়াতের জন্য রাস্তা তৈরি করা হবে। কৃষি ঋণ মওকুফ ও ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা : নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বলেছিলাম, ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করে দেব। নির্বাচনের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই আমরা সেই ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া ৪ কোটি পরিবারের মায়েদের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিচ্ছি। ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার মায়ের কাছে কার্ড পৌঁছেছে, পর্যায়ক্রমে দিনাজপুরসহ সারা দেশে এটি দেওয়া হবে। আগামী মাস থেকে প্রান্তিক চাষিদের জন্য কৃষক কার্ড দেওয়ার পাইলট প্রকল্প শুরু হবে। পানির স্তর রক্ষা ও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন :
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে ৫০ ফুটে পানি পাওয়া যেত, এখন ৩০০ ফুট গভীরে যেতে হয়। আমাদের মাটির ওপরের পানির সদ্ব্যবহার করতে হবে। আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এর ফলে বর্ষার অতিরিক্ত পানি আমরা ধরে রাখতে পারব এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচকাজে ব্যবহার করতে পারব। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে দেশের অর্থনীতির ওপর চাপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে থাকা ভাইবোনদের নিয়ে আমরা টেনশনে আছি। এত কিছুর পরেও আমরা আপনাদের দেওয়া ওয়াদা বাস্তবায়ন করছি। যারা দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আপনাদের সজাগ থাকতে হবে। অনেকে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে বিভ্রান্ত করতে চায়, তাদের খেয়াল রাখতে হবে। বক্তব্যের শেষে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মী ও জনসাধারণের উদ্দেশ্যে স্লোগান ধরেন—করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, যখন শুনব এই ১২ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হয়ে গেছে, আমি আবার আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে আসব। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ও দিনাজপুরের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা।