শীতের দিনে শরীরকে উষ্ণ রাখা আর পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে পালং শাকের স্যুপ অনেক কাজের। সুপারফুড হিসেবে পরিচিত পালং শাকে রয়েছে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ, সি ও কে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যেরও খেয়াল রাখে। তাই শীতকালে নিয়মিত পালং শাকের স্যুপ খেলে মুখে আসবে প্রাকৃতিক আভা, চুল হবে আরও ঘন ও মজবুত।
পালং শাকের স্যুপ কেন উপকারী
যারা স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন, তাদের জন্য পালং শাকের স্যুপ আদর্শ খাবার।
আবার যারা পালং শাক খেতে পছন্দ করেন না বা বাচ্চাদের যারা সবুজ শাক খাওয়াতে হিমশিম খান, তাদের জন্যও স্যুপ একটি দারুণ বিকল্প। ওজন কমানো, ত্বক উজ্জ্বল রাখা, চুল সুস্থ রাখা থেকে শুরু করে চোখের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করা, সব ক্ষেত্রেই পালং শাক ভীষণ কার্যকর।
ক্রিমি পালং শাকের স্যুপ
প্রখ্যাত শেফ রণবীর ব্রার এমনভাবে এই স্যুপ বানান, যাতে পালং শাক অপছন্দ করা মানুষও আনন্দ করে তা খেতে পারেন।
প্রস্তুত প্রণালি
প্রথমে একটি কুকারে সামান্য খাঁটি ঘি গরম করুন।
ঘি গরম হলে তাতে রসুন দিন এবং হালকা সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। এরপর দিন জিরা ও কালো গোলমরিচ। এবার মটরশুঁটি যোগ করুন। ভালো করে ধোয়া পালং শাক কুকারে দিয়ে তার ওপর সামান্য ঘি ছড়িয়ে দিন।
এরপর কাঁচা আদা দিন। রণবীর ব্রারের মতে, আদা কাঁচাই দেওয়া সবচেয়ে ভালো। সব উপকরণ একসঙ্গে নেড়ে নিন।
এরপর প্রয়োজনমতো পানি, স্বাদমতো লবণ ও সামান্য চিনি দিন। কুকারের ঢাকনা বন্ধ করে এক-দুটি শিস দিলেই হবে।
চাপ নামার পর হ্যান্ড ব্লেন্ডার দিয়ে মিশ্রণটি ভালো করে ব্লেন্ড করুন। চাইলে ছেঁকে নিতে পারেন। তবে রন্ধনশিল্পী সাধারণত ছাঁকেন না।
তড়কা তৈরি করতে খাঁটি ঘিতে জিরা, হিং, কাঁচা মরিচ, হলুদ, মৌরি, কয়েকটি মটরশুঁটি, লাল লঙ্কা গুঁড়া, লবণ ও ধনেপাতা হালকা ভেজে নিন। এই তড়কা স্যুপের মধ্যে ঢেলে দিন। গরম গরম পরিবেশন করুন এই ক্রিমি পালং শাকের স্যুপ।
গুরুত্বপূর্ণ টিপস
এই রন্ধনশিল্পী পরামর্শ দেন, এই স্যুপে পেঁয়াজ ব্যবহার না করাই ভালো। পেঁয়াজ ছাড়া বানানো স্যুপ ফ্রিজে ৩-৪ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে। কিন্তু পেঁয়াজ দিলে তার পানি স্যুপ দ্রুত নষ্ট করে দিতে পারে।
সূত্র : আজতক বাংলা