লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় গত বছরের তুলনায় চলতি বছর সুপারির উৎপাদন কমছে, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ুর পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং বিভিন্ন রোগবালাইয়ের কারণে সুপারি গাছের ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, গত এক দশক ধরে রায়পুর অঞ্চলে সুপারি চাষ একটি লাভজনক পেশা হিসেবে গড়ে উঠলেও, চলতি বছরে উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। গত বছর যেখানে রায়পুরে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন সুপারি উৎপাদন হয়েছিল, সেখানে এ বছর তা নেমে এসেছে ৭ থেকে ৮ হাজার মেট্রিক টনের নিচে। তবে ফলন কম হলেও ভালো দামও পাচ্ছেন চাষিরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশগত সমস্যা ছাড়াও সুপারি গাছের পোকামাকড়ের আক্রমণ এবং রোগ প্রতিরোধী জাতের অভাবও উৎপাদন কমার বড় কারণ। স্থানীয় বাজারে সুপারির সংকটের কারণে এর দাম বাড়ছে। ক্রেতারা বেশি দামে সুপারি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় কৃষক জাহিদুল ইসলাম জানান, গত বছর আমার বাগানে যে পরিমাণ সুপারি হয়েছিল, এ বছর তার অর্ধেকও হয়নি। গাছের পরিচর্যা ঠিকমতো করেও ফলন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। নভেম্বর মাস থেকে গাছের সুপারি পাকতে শুরু করেছে। বেচাবিক্রিও তখন থেকে শুরু। ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত গত এক মাসে তিনি চার লাখ টাকার সুপারি বিক্রি করেছেন। গাছে আরও প্রায় এক টাকার সুপারি আছে। সব মিলিয়ে তিনি এবার ৫ লাখ টাকার সুপারি বিক্রি করা সম্ভব হবে। গত বছর বাগানের সুপারি বিক্রি করে আট লাখ টাকা পেয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
স্থানীয় কয়েকজন কৃষকদের দাবি, সরকারি সহায়তা এবং সচেতন উদ্যোগ না নেওয়া হলে রায়পুরের সুপারি চাষে দীর্ঘমেয়াদি সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুন বলেন, আমরা কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি গ্রহণ এবং কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সারা বছর গাছে সুপারি ধরলেও সুপারি উৎপাদনের ভরা মৌসুম ধরা হয় অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাস। আগামী জানুয়ারি মাস পর্যন্ত সুপারির বেচাবিক্রি চলবে। শুকনা সুপারির চেয়ে কাঁচা সুপারি বেচাবিক্রিতে চাষিরা বেশি লাভবান হন।
বায়ান্ন/এসএ