দেশের খবর

লক্ষ্মীপুরে র‌্যাবের গুলিতে নিহত ও আহত নেতাকর্মীদের স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠিত

২০১৩ সালের ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুরে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার র‌্যাবের গুলিতে নিহত ও আহত নেতাকর্মীদের স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের পর শহরের চকবাজার জামে মসজিদে লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদল এই দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবু।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিন, এডভোকেট হারুনুর রশিদ ব্যাপারী, মাঈন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, জেলা যুবদলের আহবায়ক রেজাউল করিম লিটন, সদস্য সচিব আব্দুল আলিম হুমায়ুন, সিঃযুগ্ম আহবায়ক সৈয়দ রশিদুল হাসান লিংকন, জেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি বদরুল ইসলাম শ্যামল প্রমুখ। 

দোয়া পরিচালনা করেন চক বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা মুস্তাকুন্নবী। 

দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাহাব উদ্দিন সাবু বলেন, খুনি হাসিনা হাজার হাজার মানুষকে গুম-খুন করে ক্ষমতায় টিকে থাকে চেয়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা করতে পারেনি। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে। খুনি হাসিনাসহ যারা গুম-খুনের সাথে জড়িত তাদের বিচার বাংলাদেশের মাটিতে দেখতে চায় এদেশের জনগণ। অনতিবিলম্বে খুনি হাসিনাকে দেশে এনে হাজার হাজার মানুষকে গুম খুনের দায়ে বিচারের দাবি জানান বিএনপির এই নেতা। 

সাহাব উদ্দিন সাবু বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও খুনি হাসির পতন আন্দোলনে নিহত-আহত ও গুম হওয়া সকলের জন্য দোয়ার আবেদন করেন। 

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বরের ঘটনায় সুবিচার চেয়ে শেখ হাসিনাসহ ৩৫ জনের নামে ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবু। 

মামলার এজাহার সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুরে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবুর বাসা উত্তর তেমুহনীতে র‌্যাব হামলা চালায়। এ সময় তিনি বাসার পেছনের দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বাহিরে অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে থাকা তাহেরপুত্র টিপু, শিবলু ও যুবলীগ নেতা বায়েজীদের কারণে তিনি পালাতে পারেননি। পরে র‌্যাবের তারেক সাঈদ, আরিফ ও রানাসহ অভিযুক্তরা তাকে মারধরে করেন।

একপর্যায়ে তার ডান পায়ে উরুতে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করেন। পরে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে তিনি প্রাণে রক্ষা পান। একইদিন জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ জুয়েল, বিএনপি কর্মী মাহবুব ও শিহাবকে গুলি করে হত্যা করা হয়। র‌্যাব সদস্যরা চকবাজার এলাকা থেকে জুয়েলের লাশ তুলে নিয়ে গেলেও আজও তার হদিস মিলেনি। ওইদিন শহরে রনক্ষেত্র তৈরি করে র‌্যাব, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। পরে র‌্যাব সদস্যরা পুলিশ লাইনে প্রবেশ করলে ওইদিন সন্ধ্যায় হেলিকপ্টারে করে তাদের উদ্ধার করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। 

এদেকে এ ঘটনার পরেরদিন ১৩ ডিসেম্বর রাতে লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. ফয়েজ আহম্মেদকে গুলি করে হত্যা করে তার লাশ ছাদ থেকে ফেলে দেয় র‌্যাব-১১ এর সদস্যরা। 

বায়ান্ন/প্রতিনিধি/একে



সম্পর্কিত খবর