শফিকুর রহমান চৌধুরী সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। ১০ জানুয়ারি শপথ গ্রহণ করেছেন। এর কয়েক ঘন্টার মাথায় ডাক পেয়েছেন মন্ত্রীসভায়। ১১ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাতটায় শপথ নেবেন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে। এই খবরে পুরো সিলেটজুড়ে উল্লসিত দলীয় নেতা কর্মীরা। বিশেষ করে বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলার দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে বইছে আনন্দের বন্যা। ওসমানীনগর উপজেলার স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহসভাপতি দিবাংশু পাল বলেছেন, ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথবাসী এমন একটি সুসংবাদের অপেক্ষায় ছিলেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সেই উপহার দিয়েছেন সিলেট-২ আসনের মানুষকে। এই আসনের মানুষর অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এই অঞ্চলের মানুষ যুগযুগ ধরে নানান বৈষম্যের শিকার। এবার বৈষম্যের অবসান হবে। এই অঞ্চলের মানুষ পাবেন কাঙ্খিত উন্নয়ন। পাবেন সেবা। দলীয় নেতাকর্মী পাবেন মূল্যায়ন। জননেত্রী শেখ হাসিনার ওই সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরের মানুষের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে বলে জানালেন দিবাংশু পাল।
শফিকুর রহমান চৌধুরী ১৮ আগস্ট ১৯৫৭ সালে সিলেট জেলার বিশ্বনাথের দশঘর ইউনিয়নের চান্দভরাং গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আব্দুল মতলিব চৌধুরী ও মাতার নাম লতিফুন নেসা চৌধুরী। তিনি ১৯৭২ সালে চান্দভরাং উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৭৫ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে এইচএসসি ও ১৯৭৯ সালে বিএ ডিগ্রী লাভ করেন।
শফিকুর রহমান চৌধুরী ১৯৬৯ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত হন। ১৯৭৮ সালে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত হন এবং যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটস কমিউনিটি ডেভোলাপমেন্ট ট্রাস্টের সেক্রেটারী ,বেথনাল গ্রীন সিটি চ্যালেঞ্চের ডিরেক্টর ও বিভিন্ন সাব কমিটির কো-চেয়ারম্যান, বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের সভাপতি, প্রবাসী ভোটাধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব, লন্ডনে বৈশাখী মেলা বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ও অন্যতম উদ্যোক্তা, বাংলা টাউন বাস্তবায়নের অন্যতম উদ্যোক্তা এবং লন্ডন বাংলাদেশ সেন্টারের এডহক কমিটির সদস্য ।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক থেকে শফিকুর রহমান চৌধুরী সরাসরি সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হন। তিনি নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগে নেতৃত্ব দানকারী শফিকুর রহমান চৌধুরী বিলাতের মায়া ত্যাগ করে বাংলাদেশের স্থানীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসনে আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের বাঘা বাঘা প্রার্থীদের পেছনে ফেলে দলীয় মনোনয়ন পান। এম ইলিয়াস আলীকে পরাজিত করে চমক দেখান শফিকুর রহমান চৌধুরী। স্থানীয় রাজনীতিতে অভাবনীয় এই সাফল্যে দলীয় প্রধানও তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করে সরাসরি সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করেন। স্থানীয় উন্নয়ন ও জেলার রাজনীতিতে প্রায় ২৪ ঘন্টা সক্রিয় থেকে এবং সরকারি দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও সকল প্রকার লোভ-লালসার উর্ধ্বে থেকে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করায় বৃহত্তর সিলেটে একজন সৎ ও ক্লিন ইমেজের রাজনীতিবিদ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন শফিক চৌধুরী।
দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন শফিক চৌধুরী। দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেতাকর্মীদের চাওয়া স্বত্বেও বিগত দুটি জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা থেকে বিরত থেকে আনুগত্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমে দল ও দলীয় প্রধানের কাছে তিনি আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। দলের জন্য সবসময় কাজ করেন বলে তিনি ‘চব্বিশ ঘন্টার রাজনীতিবিদ’ হিসেবেও পরিচিত। আস্থাভাজন হয়ে উঠেন দলীয় প্রধানের কাছে।