সরকারের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগে বিএনপি
ভোটের পথে ধোঁয়াশা, রাজনীতিতে অস্থিরতা
জাতীয় নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলেও সরকার এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করেনি। বিএনপি বলছে, সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে। কখনো বলা হচ্ছে ডিসেম্বর, কখনো বা অন্য তারিখ। এমন অস্পষ্ট অবস্থান সরকারের সদিচ্ছা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে। বিএনপির শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, সরকারের চিন্তা ও কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে জনগণ পুরোপুরি অন্ধকারে রয়েছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতার মোহে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে কি না, এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি মনে করেন, সংস্কার নয় বরং ভিন্ন কোনো এজেন্ডা নিয়ে সরকার ব্যস্ত রয়েছে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বর্তমান সরকারের হাতে নিরাপদ নয়। আগে ছিলাম কুকুরের মুখে, এখন পড়েছি বাঘের মুখে। তিনি সরকারের ওপর থেকে জনগণের আস্থা উঠে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, সরকার যেন সিন্দবাদের বুড়ো হয়ে ঘাড়ে চেপে বসেছে। সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি কি চান নির্বাচনের জন্য আপনার সঙ্গে আমাদের দ্বন্দ্ব তৈরি হোক? তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান। ১৬ এপ্রিল বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে তারা সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপের প্রত্যাশা করলেও কোনো প্রতিশ্রুতি না পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে। তারা সিদ্ধান্ত নেয়, আন্দোলনের কঠোর কর্মসূচিতে না গেলেও সরকারের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা অব্যাহত রাখা হবে। বিএনপি নেতারা মনে করছেন, মানবিক করিডর ইস্যু, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং রাজনৈতিক অস্বচ্ছতা দেশকে ধীরে ধীরে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পরিস্থিতির ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে তা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। Link RoyalHoki নেতারা বলছেন, দেশের বর্তমান অবস্থার সুযোগ নিয়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রও সক্রিয় হতে পারে। গণতন্ত্রে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে সংস্কারের দোহাই দিয়ে নির্বাচন বিলম্ব করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়কারী ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, সংকটের একমাত্র সমাধান নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা। তাঁর মতে, এই সরকার তিন মাসের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। তাই জনগণের আস্থা ফিরে পেতে হলে সরকারকে জুন-ডিসেম্বর সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, মানুষ সরকারের ঘোষণায় আস্থা রাখতে পারছে না। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, একদিকে শাহবাগ ও যমুনা এলাকায় আন্দোলন চলছে, তবুও পুলিশ সেখানকার মিছিল ও সমাবেশে টিয়ার গ্যাস বা লাঠিচার্জ করছে না। অথচ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের ওপর হামলা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এগুলো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্রের অংশ। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকারকে বলব, ডানে-বাঁয়ে সব দিকে তাকিয়ে যথাযথভাবে দেশ শাসন করুন। না হলে কেউ রক্ষা পাবেন না। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, অবনতিশীল ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি উত্তরণে নির্বাচনই একমাত্র পথ। তাদের মতে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব। সরকারের উচিত সংকট নিরসনে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা। অন্যথায় সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।