খবর প্রতিদিন

সিলেট বিভাগের তিন মন্ত্রীর আসনে ডামি প্রার্থী নেই: মুখোমুখি মোমেন-মিসবাহ

সিলেট বিভাগে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে ৩ মন্ত্রী ও এক এমপির আসনে দলটির কোনো স্বতন্ত্র বা ডামি প্রার্থী নেই; তবে সিলেট-১ আসনে দলের মনোনীত প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ছিল মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন। রোববার নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই হয়েছে।
এতে সিলেটের ৪ জেলার ১৯ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে ১৫ আসনে দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে। এতে শঙ্কামুক্ত থাকতে পারছেন না দল মনোনীত প্রার্থীরা।

বিএনপিবিহীন এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছেন দলটির এই মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা। তাই দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তারা। যদিও দল থেকে ডামি বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কড়া কোনো নির্দেশনা নেই। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতেই দলটির এমন সিদ্ধান্ত বলে জানা যায়।

এদিকে, সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর-কোম্পানীগঞ্জ) আসনে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ, মৌলভীবাজার-১ (জুড়ী-বড়লেখা) আসনে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের আসন-এই তিন মন্ত্রী ও হবিগঞ্জ-৩ আসনে এমপি আবু জাহিরের বিরুদ্ধে দলের কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হননি।  

তবে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের আসনে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। নির্বাচনে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন এই দুই প্রভাবশালী নেতা। তাই এই আসন নিয়ে ভোটারদের মধ্যেও আলোচনা-সমালোচনা দেখা যাচ্ছে।

ইমরান-মান্নান-শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে মনোয়নবঞ্চিতরা
এদিকে, সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে দলের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে না ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানকে। তবে এ আসনে মন্ত্রী ছাড়া আরও ৪ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন । তারা হলেন- কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী কমিটির সদস্য আজিজুস সামাদ ডন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য খায়রুল কবীর রুমেন, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফুল ইসলাম। তবে মনোনয়ন বঞ্চিতদের কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হননি। দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, নৌকার পক্ষে কাজ করতে জগন্নাথপুরের আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ। দলের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রার্থী হবে না তারা।

অপরদিকে, সংসদ সদস্য পরিবেশ ও বনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন আহমদের আসনেও দলের কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই।  এ আসনে আওয়ামী লীগের শাহাব উদ্দিন ছাড়াও মনোনয়ন জমা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী আহমেদ রিয়াজ উদ্দিন, তৃণমূল বিএনপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ধর্মভিত্তিক সংগঠনের নেতা কাজী ময়নুল ইসলাম ও ব্যবসায়ী ফারুক আহমেদ (ভান্ডারী)।
এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন- ছাত্রলীগের সাবেক সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন, বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সুন্দর, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, কুলাউড়া থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। দলের মনোনয়নবঞ্চিত হলেও নির্বাচনে তারা কেউই স্বতন্ত্র প্রার্থী হননি। মনোনয়ন বঞ্চিতদের ভাষ্য, নৌকা প্রতীকের বিদ্রোহী হওয়ার মনমানসিকতা তাদের নেই। দলীয় প্রার্থীদের জন্যই তারা কাজ করবেন।

একই চিত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদের আসনেও । এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন আরও ৭ জন। তবে ইমরানকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তারা। স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচনে করছেন না তাদের কেউ।

এখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন- গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফারুক আহমদ, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান, গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, গোয়াইনঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. ফজলুল হক, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাপ মিয়া, গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলাম কিবরিয়া হেলাল, জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য ও জাতীয় শ্রমিক লীগ সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম রোমেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সিলেট জজকোর্টের সহকারী পিপি অ্যাডভোকেট শাহজাহান চৌধুরী।



সম্পর্কিত খবর