জাতীয়

এনআইডি সেবা অবশ্যই ইসির অধীনে থাকা উচিত: প্রত্যাশা সিইসির

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে থাকা উচিত বলে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে প্রত্যাশা করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। 

মঙ্গলবার (৪ মার্চ) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ প্রত্যাশা করেন তিনি। 

এদিকে জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি ও পাসপোর্ট সেবা নিয়ে দুর্ভোগ-জটিলতা নিরসনে স্বতন্ত্র কমিশন প্রতিষ্ঠায় সিভিল রেজিস্ট্রেশন (কমিশন), ২০২৫ নামে একটি অধ্যাদেশ জারি করার উদ্যোগ নিচ্ছে অন্তঃবর্তীকালীন সরকার। এ নিয়ে স্থানীয় সরকার, সুরক্ষা সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের মতামতও গ্রহণ করছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের এ বৈঠকে ইসি সচিবালয়ের প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আইনের খসড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক মতামত প্রদান সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির প্রথম সভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছিলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা নিজেদের কাছে রাখতে নির্বাচন কমিশনের পাঠানো প্রস্তাব অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। এটা সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে, এর মধ্যে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন সংস্থা নামে একটি স্বতন্ত্র স্বাধীন সংবিধিবদ্ধ সংস্থা গঠন করার বিষয়ে সুপারিশ করেছে সরকারের কাছে।

এই তথ্য জানার পর এ নিয়ে বেশ আপত্তি তুলে ২৬ জানুয়ারি সিইসি বলেছেন, ভোটার এনআইডি কার্ড, ভোটার রেজিস্ট্রেশন যেটা উনারা বলেছেন পরবর্তী পর্যায়ে একটা আবার স্বাধীন অধিদপ্তর/পরিদপ্তরে হ্যান্ডওভার করার জন্য সাজেস্ট করছেন। আরেকটা কর্তৃপক্ষকে দিলে আমার কি তার ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকবে? ইটস ইমপসিবল ।

এনআইডি সেবা ইসির অধীনে থাকা উচিত কি না? জানতে চাইলে সিইসি বলেন, অবশ্যই থাকা উচিত। সংস্কার কমিশনের রিপোর্টের পর থেকেই তো বলেছি। ভোটার নিবন্ধনের বাই প্রডাক্ট তো। এটি থাকা উচিত। আমরা এই বক্তব্য দিয়েই যাচ্ছি। সিইসি বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ চলমান আছে। সামনে একটি নির্বাচন আছে। বাস্তব বিষয়াদি সব বিবেচনায় নিয়েই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে এটি আমি ধারণা করতে পারি। ইতিমধ্যে প্রাথমিক সভায় প্রতিনিধির মাধ্যমে আমাদের মতামত তুলে ধরেছি। সভার কার্যপত্র এখনো পাইনি। সেটি পেলে আমরা বুঝতে পারবো তাদের চিন্তাভাবনা কি। এ বিষয়ে আমাদের মতামত সরকারকে লিখিত আকারেও জানাবো। সরকারের সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত আসবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করে কিছু করে ফেলবে আমি এমনটা মনে করছি না। 

যদি ইসি থেকে এনআইডি চলে যায়, তাহলে কি সমস্যা হতে পারে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, সমস্যা যা হবে আমরা লিখিত আকারে জানাবো। সমস্যা তো হবে। তবে সরকার এক ধরণের চিন্তা করছে কিভাবে সব ধরণের নাগরিক সেবা এক জায়গা থেকে দেওয়া যায়। একটি কর্তৃপক্ষের মতো করে নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকবে এরকম একটা চিন্তা আমি শুনেছিলাম। কারণ আমি তো উপদেষ্টা পরিষদের মিটিংয়ে থাকি না। সরাসরি শুনিনি। যাই হোক গতকাল (সোমবার) একটি মিটিং হলো সেখানে প্রতিনিধির মাধ্যমে আমাদের মতামত তুলে ধরেছি। আরও মিটিং হবে। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে এনআইডি নির্বাচন কমিশন থেকে নিয়ে যাবে আমি এমনটা শুনিনি। 

খসড়া করার আগে ইসির সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন ছিল কিনা? জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেখেন এনআইডিটা কিন্তু নিয়ে যাচ্ছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনও করে ফেলেছিল, কার্যকর হয়নি। আমরা সরকারকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছি যে, এটি স্বরাষ্ট্রে যাওয়াটা ঠিক হবে না। কিভাবে কাজটা করা যেতে পারে এটির একটি চিন্তা আছে তো। এটা এমন না যে শুধু এনআইডি টা আমাদের থেকে নিয়ে গেল আর সবকিছু হয়ে গেল। এমন হওয়া উচিতও না। এমন কিছু হবে বলে আমি অন্তত মনে করছি না। কারণ প্রথম সভায় আমাদের যখন ডেকেছেন, উনারা আমাদের মতামতের গুরুত্ব দেবেন বলেই তো আমাদের ডেকেছেন। যদি আলাদা কোনো কর্তৃপক্ষ হয়েও যায়, আর এনআইডি আমাদের অধীনে থাকে তাহলেও তো সমস্যা নেই। অন্যান্য সেবাও যদি আমাদের অধীনে আসে। আমি বিশ্বাস করি আমাদের মতামতের গুরুত্ব দেওয়া হবে। কেন এনআইডি সেবা আমাদের অধীনে রাখা দরকার তা প্রতিনিধির মাধ্যমে আমরা বলেছি জানান সিইসি। 

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এটি একটি বড় সিদ্ধান্ত। যেখানে মাঠে ভোটার নিবন্ধন চলছে, হাজার হাজার লোক কাজ করছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন আছে, যেটার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এরমধ্যে তড়িঘড়ি করে কোনো সিদ্ধান্ত হবে বলে আমি অন্তত মনে করি না। যেখানেই কথা বলার সুযোগ থাকবে সেখানেই আমরা এ বিষয়ে কথা বলবো। এনআইডি চলে যাবে এ বিষয়ে ইসি কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি হতাশার মতো চলে এসেছে বলেও জানান সিইসি।



সম্পর্কিত খবর