ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে ট্রেনে ওঠার সময় সিঁড়ি থেকে পা পিছলে পড়ে গিয়ে রাবেয়া খাতুন (৩৭) নামের এক যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকাল ৮টার দিকে মোবারকগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাবেয়া খাতুন রাজধানী ঢাকার খিলক্ষেতের জোয়ারসাহারা এলাকার ইকবাল হোসেনের মেয়ে।
স্বজনরা জানান, গত দুই দিন আগে কালীগঞ্জ পৌরসভার বলিদাপাড়া এলাকায় বোনজামাই এনামুল ইসলাম ভোলার বাড়িতে বেড়াতে আসেন রাবেয়া। শনিবার সকালে বলিদাপাড়া থেকে ইজিবাইকে চড়ে মোবারকগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে যান তিনি, উদ্দেশ্য ছিল ট্রেনে ঢাকায় যাওয়ার। পরে চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে তিনি ট্রেনের নিচে পড়ে যান। নিহত রাবেয়া বেগমের ৮ ও ১৪ বছর বয়সী দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সেলিমা রহমান বলেন, "ওই নারীকে বারবার নিষেধ করেছিলাম ছেড়ে যাওয়া কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসে না উঠতে। কিন্তু তিনি নিষেধ না শুনে চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে ট্রেনের নিচে পড়ে যান এবং তার দুটি পা পিষ্ট হয়ে কাটা পড়ে। এরপর তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। কালীগঞ্জ হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসক। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে যশোরে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।"
মোবারকগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান নয়ন বলেন, "শনিবার সকালে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে রাজশাহীগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে এক নারী যাত্রীর দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার সময় ওই নারী চলন্ত ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করেন এবং এ কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে। স্টেশনের অনেকেই তাকে চলন্ত ট্রেনে উঠতে নিষেধ করেছিলেন। আমরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠাই। পথিমধ্যে তিনি মারা যান।"
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আরিফুর রহমান বলেন, "ট্রেনে ওই নারীর দুটি পা কাটা পড়েছিল এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। এ ছাড়াও তার একটি হাত ভেঙে যাওয়াসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে যশোরে রেফার করা হয়েছিল।"