দেশের খবর

কুমিল্লায় মা ও ৮ মাসের ভাতিজিকে হত্যার অভিযোগে যুবক আটক

কুমিল্লার দেবীদ্বারে মা ও আট মাস বয়সী ভাতিজিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে ইমন নামে এক যুবককে ধরে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা। এ সময় ঠেকাতে গিয়ে আহত হয়েছেন শিশুটির মা। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দেবীদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ইমন (২৪) ওই বাড়ির মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে।

 

 

নিহতরা হলেন ইমনের মা পেয়ারা বেগম (৬৫) এবং তার আট মাস বয়সী ভাতিজি ইশরাত জাহান। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন শিশুটির মা রাবেয়া বেগম।

 

তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি ইমনের বড় ভাই সুজন মিয়ার স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ইমন কোনো কারণে হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে দা’ দিয়ে তার মা পেয়ারা বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করেন। এরপর তার আট মাস বয়সী ভাতিজিকে আছড়ে মেরে ফেলেন। এসময় ঠেকাতে গেলে তার ভাবি (শিশুটির মা) রাবেয়া বেগমকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা এসে আহত রাবেয়াকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠান। এসময় স্থানীয় জনতা ইমনকে পাশের একটি ঘরে আটকে রাখেন। পরে পুলিশ এলে ইমনকে পুলিশে দেওয়া হয়।

 

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসেছি। অভিযুক্ত ইমন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ বলে জানা গেছে। তবে তিনি কেন এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। 

 

পেয়ারা বেগমের বড় ভাই মহেশপুর গ্রামের ফারুক মেম্বার জানান, ইমন চার-পাঁচ বছর আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে আহত হন। দুইবার তার পায়ের অপারেশন হয়েছে। এর মধ্যে সম্প্রতি ৭০ হাজার টাকা খরচ করে অপারেশন হয় তার। হাসপাতাল থেকে গতকাল রোববার বাড়ি আসেন তিনি। পায়ের ব‍্যথার ইনজেকশনের রিঅ্যাকশনের কারণে হয়তো তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। 

 

ঘটনাস্থল থেকে দেবিদ্বার সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মো. শাহীন জানান, পায়ের ব‍্যথার যন্ত্রণায় মানসিক ভারসাম‍্য হারিয়ে ইমন তার মা ও ভাতিজিকে হত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

 



সম্পর্কিত খবর