স্বাস্থ্য

জীবনযাপনের যেসব ভুলে বাড়তে পারে থাইরয়েডের সমস্যা

প্রতিদিনের জীবনযাপনের সঙ্গে জড়িত বহু অভ্যাসই শরীরের হরমোনের ভারসাম্যকে প্রভাবিত করে। এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন না হলে নিঃশব্দে বাড়তে পারে নানা শারীরিক সমস্যা—যার অন্যতম থাইরয়েড। ডায়াবেটিসের মতোই থাইরয়েডের সমস্যাও ঘরে ঘরে দেখা যাচ্ছে।

 

থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরক্সিন হরমোন শরীরের বিপাকক্রিয়া, হৃদ্স্পন্দন, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালনা করে।

 

 

এই হরমোনের নিঃসরণ বেশি হলে এক ধরনের সমস্যা দেখা দেয়, আবার মাত্রা কমে গেলে হয় ভিন্ন সমস্যা। কারো ওজন বেড়ে যায়, কারো আবার অস্বাভাবিক ভাবে কমে যায়। হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে ক্লান্তি, উদ্বেগ, বুক ধড়ফড়ানি, অল্পতেই ঠান্ডা লাগা, ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে সমস্যা আরো জটিল আকার নিতে পারে।

 

কম ঘুম

বর্তমানে অনেকেই পর্যাপ্ত ঘুম পাচ্ছেন না—কেউ অনিদ্রায় ভোগেন, কেউ কাজের শিফ্ট বা সময়ের অভাবে। শিশু থেকে বৃদ্ধ—অনেকের পক্ষেই দিনে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু দীর্ঘদিন কম ঘুম হলে শুধু শরীর বিশ্রাম পায় না, থাইরক্সিনসহ বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্যও বিঘ্নিত হয়। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত সাত ঘণ্টার কম ঘুম হলে থাইরয়েড হরমোনের নিঃসরণ কমে যেতে পারে, যা ধীরে ধীরে নানা শারীরিক সমস্যার জন্ম দেয়।

 

 

দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ও উদ্বেগ থাইরয়েডের কার্যকারিতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সাময়িক দুশ্চিন্তা শরীর সামলে নিতে পারলেও, চাপ যদি দীর্ঘদিন চলতে থাকে তবে সমস্যা গুরুতর হতে পারে। পরিস্থিতিগত কারণে চাপ এড়ানো সব সময় সম্ভব না হলেও নিয়মিত শরীরচর্চা, ধ্যান ও প্রাণায়ামের মাধ্যমে মনকে শান্ত রাখা যায়।

 

কড়া ডায়েট বা অনিয়মিত খাওয়া

দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, অনিয়মিত খাবার বা পুষ্টিহীন ডায়েট থাইরয়েডের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া ওজন কমাতে গিয়ে অতিরিক্ত কড়া ডায়েট করলে ঝুঁকি বাড়ে।

 



সম্পর্কিত খবর