জাতীয়

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: শহীদদের স্মরণে বিশেষ প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতির প্রদীপ জ্বালিয়ে এগিয়ে চলার শপথের বার্তা নিয়ে প্রথম আলোর উদ্যোগে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে আয়োজিত এই প্রদর্শনী ২৪ জানুয়ারি শুরু হয়েছে এবং চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই প্রদর্শনী জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকছে। শুধুমাত্র শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকবে। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা এবং শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করা।

প্রদর্শনীতে রয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়ের ঐতিহাসিক ছবি, শহীদদের ব্যবহৃত বিভিন্ন ব্যক্তিগত সামগ্রী এবং আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো নিয়ে তৈরি প্রামাণ্যচিত্র। এ আয়োজন শহীদ পরিবারের সদস্যদের হৃদয়বিদারক স্মৃতিচারণের পাশাপাশি দর্শকদের মনকে স্পর্শ করছে।

03-29

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) আয়োজিত আলোচনা সভায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের সদস্য ড. চৌধুরী সাইমা ফেরদৌস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা।

প্রদর্শনীর ‘সত্যে তথ্যে জুলাই’ কর্নারে আছে পত্রিকা, প্রতিবেদনের নিদর্শন। ছবি আছে ‘ক্যামেরায় বিদ্রোহ’ এবং ‘জুলাই-জাগরণ’ কর্নারে। ‘রক্তাক্ত স্মারক’ কর্নারে সাজানো আন্দোলন দমন করতে পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর ব্যবহৃত প্রাণঘাতী বুলেট ও রাবার বুলেটের খোসা, ছররা গুলি, গ্রেনেডের পিন, কাঁদানে গ্যাসের খোসা এসব সামগ্রী।

ড. চৌধুরী সাইমা ফেরদৌস বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আমাদের জাতীয় জীবনের জন্য এক অনন্য অধ্যায়। এটি গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ভিত্তি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।"

অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, "এই আন্দোলন কেবল একটি সময়ের ঘটনা নয়; এটি আমাদের সংগ্রামী ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি।"

শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, "এ ধরনের আয়োজন আমাদের গর্বিত করে তোলে, আবার প্রিয়জন হারানোর বেদনাও স্মরণ করিয়ে দেয়।"

 

02-49

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এমন উদ্যোগ শহীদদের আদর্শকে ছড়িয়ে দিতে এবং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও তারা জানায় ৫ আগস্ট সাভারের হত্যাকাণ্ড নিয়ে নির্মিত বিশেষ ভিডিও উদ্বোধন করা হবে ২৯ জানুয়ারি। অতিথি থাকবেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান আলী রীয়াজ ও ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস। সমাপনী আয়োজন ৩১ জানুয়ারি থাকবে আহমেদ হাসান সানি ও কাকতালের গান।

এই বিশেষ প্রদর্শনীতে ইতিহাসের স্পর্শকাতর অধ্যায়গুলোর সাথেই রয়েছে নতুন করে এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা, যা নতুন বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও জাতীয় মূল্যবোধের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করবে।

 

বায়ান্ন/আরএস

 



সম্পর্কিত খবর