খাদ্যআঁশ বা ফাইবার এমন একটি খাদ্য উপাদান, যা অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমকে সক্রিয়ভাবে শক্তিশালী করে এবং ‘গাট-ব্রেন অ্যাক্সিস’—অর্থাৎ অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। এর ফলে আমাদের মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতা দীর্ঘদিন থাকে বলে জানিয়েছে নতুন গবেষণা।
অ্যাবারডিন বিশ্ববিদ্যালয়ের রোয়েট ইনস্টিটিউটের গাট মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক কারেন স্কটের মতে, মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্যের জন্য খাদ্যতালিকায় ফাইবার বাড়ানো জরুরি। অন্যদিকে, ফাইবারের ঘাটতি অসুস্থতার একটি বড় কারণ হিসেবেও চিহ্নিত হয়েছে।
তবুও বাস্তবতা হলো, আমরা অনেকেই পর্যাপ্ত ফাইবার খাই না।
গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৯৭% পুরুষ ও ৯০% নারী প্রস্তাবিত পরিমাণের চেয়ে কম আঁশ গ্রহণ করেন। অধিকাংশই দৈনিক চাহিদার অর্ধেকেরও কম খান। যুক্তরাজ্যেও ৯০%-এর বেশি প্রাপ্তবয়স্ক এই ঘাটতিতে ভোগেন।
বিশ্বের আরো বহু দেশেই একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আমাদের দেশও এসব দেশ থেকে পিছিয়ে নয়।
মস্তিষ্ক রক্ষায় ফাইবারের ভূমিকা: স্কট ব্যাখ্যা করেন, উচ্চ-আঁশযুক্ত খাদ্য মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে এখন মনে করা হচ্ছে। আঁশ হজমের সময় অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়া থেকে যে ফ্যাটি এসিড বিউটিরেট তৈরি হয়।
আর এটি অন্ত্রের আস্তরণকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। ফলে ক্ষতিকর উপাদান রক্তপ্রবাহে ঢুকে মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলার ঝুঁকি অনেকটাই কমে।
এই কারণেই গাট মাইক্রোবায়োটার উন্নতি জ্ঞানীয় ক্ষমতাও বাড়াতে পারে। স্কট বলেন, ‘আপনি যত বেশি আঁশ খাবেন, তত বেশি বিউটিরেট তৈরি হবে, আর ততই মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতা উন্নত হবে।’
২০২২ সালের একটি গবেষণায় ৩ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে দেখা যায়, যাদের আঁশ গ্রহণের পরিমাণ বেশি ছিল, তাদের ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম।
বিপরীতে, যারা কম আঁশ খেতেন, তাদের ঝুঁকি বেশি ছিল। একইভাবে, ৬০ বছরের বেশি বয়সিদের ওপর করা আরেকটি গবেষণায় উচ্চ আঁশযুক্ত খাদ্য গ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতা ভালো দেখা গেছে।