জাতীয়

দুদকের মামলায় যবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য ড. আব্দুস সাত্তার কারাগারে

দুদকের মামলায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডক্টর আব্দুস সাত্তারকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। সোমবার সিনিয়র জেলা জজ  জেলা ও দায়রা জজ) এবং সিনিয়র স্পেশাল জজ শেখ নাজমুল আলম জামিন আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের পিপি সিরাজুল ইসলাম। মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০০৯ সালে যবিপ্রবি’র নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে আবেদন করেন আসামি আব্দুর রউফ। তার নিয়োগের জন্য গঠিত তিন সদস্য বিশিষ্ট বাছাই বোর্ডের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন উপাচার্য ডক্টর আব্দুস সাত্তার। বাছাই বোর্ডের আর এক সদস্য ছিলেন ইবির উপ-উপাচার্য ডক্টর কামাল উদ্দিন। একই বছরের ২২ আগস্ট আসামি আব্দুরসহ আরও তিন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়। বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে আব্দুর রউফের কোনো পূর্ব-অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও বাছাই বোর্ড অবৈধভাবে তাকে প্রথমে সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে সেকশন অফিসার (গ্রেড-১, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। রিজেন্ট বোর্ড সভাপতি হিসেবে সাবেক উপাচার্য ডক্টর আব্দুস সাত্তার উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই তাকে সেকশন অফিসার হিসেবে নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। আব্দুর রউফ সেকশন অফিসার পদে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে কর্মরত থাকা অবস্থায় সিলেকশন গ্রেডসহ বিভিন্ন সুবিধাপ্রাপ্ত হয়ে বিভাগীয় প্রার্থীর সুবিধা নিয়ে ২০১৪ সালে সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে এবং ২০২১ সালে উপ-পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। অবৈধ নিয়োগের কারণে ২০০৯ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত তিনি বেতন ভাতা বাবদ মোট ৬১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩২ টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। ২০২৩ সালের ২১ আগস্ট যশোরের তৎকালীন উপ-পরিচালক আল-আমিন এ ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে দুদকে মামলা করেন। এ মামলার তদন্ত শেষে ওই তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জমিট  জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। সোমবার মামলায় ধার্যদিনে উপাচার্য আব্দুস সাত্তার আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন। বিচারক জামিন আবেদনের শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দিয়েছেন।  এ মামলার অপর আসামি যবিপ্রবির উপ-পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) আব্দুর রউফ ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাবেক উপ-উপাচার্য ডক্টর কামাল উদ্দিন জামিনে আছেন।

 

 

 

 



সম্পর্কিত খবর