সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০২৬ সালের অষ্টম সভা আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ভোজ্যতেল ক্রয়, সেতু নির্মাণ, বিদ্যুৎ ক্রয়সহ ছয়টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে। এরমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আগের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি দামে তিন কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ এলএনজি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে চারটি লটে ৮০ লাখ লিটার পরিশোধিত রাইস ব্রান তেল ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এই ক্রয়ের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এছাড়া আরও পাঁচটি লটে ১ কোটি লিটার রাইস ব্রান তেল কেনার প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭০ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে মজুমদার ব্রান অয়েল মিলস, মজুমদার প্রোডাক্টস, তামিম অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ এবং গ্রিন অয়েল অ্যান্ড পোলট্রি ফিড ইন্ডাস্ট্রি।তবে আন্তর্জাতিক পুনঃদরপত্র পদ্ধতিতে ১ কোটি ৩০ লাখ ৩২ হাজার লিটার পরিশোধিত পাম তেল কেনার প্রস্তাবটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে আলোচনার সময় প্রত্যাহার করা হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের আওতায় গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা থেকে চিলমারী উপজেলা সদর সংযোগকারী সড়কে তিস্তা নদীর ওপর ১৪৯০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের দ্বিতীয় সংশোধিত প্রস্তাবও সভায় অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। মূল চুক্তিমূল্য ছিল ৩৬৭ কোটি ৯৮ লাখ ১২ হাজার ৯০৬ টাকা, যা সংশোধনের পর ৪৪৩ কোটি ৬৮ লাখ ২১ হাজার ৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাবে সিদ্ধিরগঞ্জ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনার বিষয়টি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এ প্রকল্পে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩ হাজার ৮৮০ কোটি ২ লাখ টাকা। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক কোটেশন পদ্ধতিতে স্পট বাজার থেকে তিনটি কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। আগামী এপ্রিল মাসে নির্ধারিত সময়ে এই এলএনজি আমদানির মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তিন কার্গো এলএনজি’র মধ্যে যুক্তরাজ্যের টোটাল এনার্জি গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে একটি কার্গো এলএনজি ৯০৭ কোটি ৮৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩০৪ টাকায় আমদানি করা হবে। প্রতি এমএমবিটিইউ মূল্যের হিসাব ধরা হয়েছে ২১ দশমিক ৫৮ ডলার। গত বছরের ডিসেম্বরে একই প্রতিষ্ঠান থেকে এক কার্গো এলএনজি কেনার সময় ব্যয় ছিল ৪৩৬ কোটি ৭ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫২ টাকা এবং প্রতি এমএমবিটিইউ মূল্যের হিসাব ছিল ১০ দশমিক ৩৭ ডলার। অর্থাৎ এবার দ্বিগুণের বেশি দামে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার পসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন থেকেও দুটি কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একটি কার্গোর ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৭৩ কোটি ৩৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪৮৮ টাকা, অপরটির জন্যও একই ব্যয় ধরা হয়েছে। প্রতি এমএমবিটিইউ মূল্যের হিসাব ২০ দশমিক ৭৬ ডলার। অর্থাৎ দক্ষিণ কোরিয়া থেকেও দ্বিগুণের বেশি অর্থ খরচ হয়ে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকের নির্ধারিত অ্যাজেন্ডার বাইরে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে তিন কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি-১০৫(৩) (ক) অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় স্পট মার্কেট থেকে এই এলএনজি আনা হবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলতি বছরের ৫-৬, ৯-১০ এবং ১২-১৩ এপ্রিল তিনটি কার্গো এলএনজি সরবরাহ করা হবে।