বাঁশখালীতে পানি চলাচল স্থানে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। কৃত্রিম জলাবদ্ধতার কারণে পিচ ঢালা সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। ভেঙে গেছে মাটির দেওয়ালের বসতবাড়ি। সৃষ্টি হয়েছে জনদূর্ভোগ। উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড ফকিরপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রভাবশালী লেয়াকত আলীর ছেলে নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রভাবশালীরা মানুষের জায়গা জমি দখল ছাড়াও সরকারী জায়গা জবর দখল করতে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির এমন অভিযান এলাকাবাসীর। কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় দুটি পুকুরের ৬ লক্ষাধিক টাকার মাছ ভেসে গেছে।
এর আগে গত কিছু দিন পূর্বে ভারি বর্ষণের সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জামশেদুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আটকে রাখা পানি বাঁধ কেটে দিয়ে ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেও প্রভাবশালীরা সেই নির্দেশ মানেনি।
এনিয়ে এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁশখালীর কালীপুর ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকায় প্রভাবশালী নজরুল ইসলাম ও তার লোকজন বর্ষায় বৃষ্টির পানি চলাচলের মুখে বাঁধ নির্মাণ করে পানি আটকে রাখেন। এতে করে জলাবদ্ধতায় একটি সড়কসহ পুরো এলাকা তলিয়ে যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নজরুল ইসলাম ৫ আগস্টের পর সড়কের পাশের খাস জায়গাসহ এলাকার সাধারণ মানুষের জায়গা জবর দখল করছেন। ওই এলাকার মফজল আহমদের ছেলে মুজিবুর রহমান সুমন জানান, বিগত ৫ আগস্টের পর থেকে নজরুল ইসলাম ও তার লোকজন জোর পূর্বক আমাদের জায়গা জবর দখল করছে। আরো জায়গা জবর দখল করে আমাদের উচ্ছেদ করতে পানি চলাচলের মুখে বাঁধ নির্মাণ করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে আমার দুটি পুকুর ডুবিয়ে দিয়েছে। এতে ৬ লক্ষাধিক টাকার মাছ ভেসে গেছে।
রিকশা চালক নুরুল ইসলাম জানান, পানি আটকে রেখে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করায় বাড়ি ঘর, পুকুর এবং সড়কও তলিয়ে গেছে।
অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম জানান, আমি আমার জায়গায় বাঁধ নির্মাণ করেছি। এতে কার ক্ষতি হল, কার লাভ হল সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। আমি কারো জায়গাও দখল করিনি।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জামশেদুল আলম জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে আমি চেয়ারম্যানসহ ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। জলাবদ্ধতা নিরসনে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।