চট্টগ্রাম প্রতিদিন

বাঁশখালীতে মসজিদ পাকা করে দেয়ার নামে টাকা আত্মসাৎ

  • প্রতারক চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার
  • গ্রেফতারের খবরে থানায় পাওনাদারদের ভীড়

বাঁশখালীতে বিদেশী সংস্থা ও শেখদের মাধ্যমে মসজিদ পাকা করে দেয়া ও মাদ্রাসার ভবন করে দেয়ার নামে লোকজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া প্রতারক চক্রের সদস্য আবদুল্লাহ প্রকাশ ফুয়া আবদুল্লাহকে আটক করেছে পুলিশ।

 

সোমবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নের খুদুকখালী গ্রামের মাওলানা নুরুল হকের ছেলে মাওলানা আলী আহমদ ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ এনে এই প্রতারকের বিরুদ্ধে মামলা করলে পুলিশ মামলা রুজে করে তাকে আদালতে সোপর্দ করেছে।

ফুয়া আবদুল্লাহ তার পিতার নাম ওবায়দুল হক এবং গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার মাইজভান্ডার এলাকায় উল্লেখ করলেও তার বাড়ি মিরসরাই উপজেলার নিজামপুর বলে জানা গেছে। তাছাড়া কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার কালারমার ছড়া এলাকায় তার শশুর বাড়ি হওয়ায় অনেক সময় তার বাড়ি মহেশখালী বলেও পরিচয় দিতেন লোকজনকে।

 

পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্ত সূত্র জানায়, প্রতারক চক্রের সদস্য আবদুল্লাহ প্রকাশ ফুয়া আবদুল্লাহ কুয়েতি শেখের কাছ থেকে বিভিন্ন জায়গায় মসজিদ ও মাদ্রাসার ভবন করে দেয়ার নামে লোকজনের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। মসজিদ ও মাদ্রাসার ভবন দেয়ার কথা বলে কমিশন হিসেবে এই টাকা নিতের ফুয়া আবদুল্লাহ।

ক্ষতিগ্রস্ত মাওলানা আলী আহমদ জানান, আমার গ্রামের মসজিদটি জীর্ণশীর্ণ হওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় বন্ধুবান্ধবদের কাছে মসজিদ পাকা করে দেয়ার বিভিন্ন সংস্থার সন্ধান করছিলাম। এক ব্যাংক ম্যানেজারের মাধ্যমে প্রতারক আবদুল্লাহর সাথে আমার পরিচয় হয়। তিনি দুটি মসজিদ পাকা করে দেয়ার কথা বলে আমার কাছে বিভিন্ন দফে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেন। ৩ মাসের মধ্যে মসজিদের কাজ শুরুর কথা থাকলেও ৩ বছরেও আমাকে মসজিদ করে দেননি। পরে টাকা ফেরৎ চাইলে আজ দেবে কাল দেবে করে ২ লাখ টাকার একটি চেক ধরিয়ে দেন। ওই চেকও আর পাস হয়নি। এক পর্যায়ে প্রতারক আবদুল্লাহ আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। রবিবার বিকেলে আবারো ৪৫ লাখ টাকার একটি ভবন বরাদ্দ দেয়ার কথা বলে আমাকে ফোন করে আরো ২ লাখ টাকা দিতে বললে আমি তাকে বাঁশখালী আসতে বলি। পরে লোকজন তাকে আটক করে থানায় সোপর্দ করে।

এদিকে রবিবার বিকেলে একটি প্রাইভেট কার নিয়ে আরো ২ সহযোগীসহ বাঁশখালী উপজেলা সদরে আসেন ফুয়া আবদুল্লাহ। খবর পেয়ে আরো কয়েকজন পাওনাদার সেখানে জড়ো হয়। বিকেল থেকে রাত অবদি নানা দেন দরবারের পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জামশেদুল আলমের নির্দেশে তাকে থানায় হস্তান্তর করে এলাকাবাসী।

পাওনাদার মাওলানা তৈয়ব জানান, আমার গ্রাম বাহারছড়ায় মনজিদ করে দেয়ার কথা বলে মসজিদের নকশা ও দলিলপত্র নিয়ে যায় প্রতারক আবদুল্লাহ। আমার কাছ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। বাঁশখালী থানায় এই প্রতারককে আটক করা হয়েছে শুনে অভিযোগ নিয়ে এসেছি।

পেকুয়ার র‍্যাব সদস্য আনিসুর রহমান জানান, ফুয়া আবদুল্লাহ তার ভাতিজা ইবরাহিমকে বিদেশ নেয়ার নামে ২০১৯ সালে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেন। বিদেশ নেয়া তো দুরের কথা সেই টাকাও উদ্ধার করতে পারিনি তার কাছ থেকে। এই প্রতারক বাঁশখালী থানায় আটকের খবর শুনে আমার চেক এবং ডকুমেন্ট হোয়াটসঅ্যাপ এ বাঁশখালী থানার ওসিকে পাঠিয়েছি। এছাড়া চাম্বলের মাওলানা শামসুল হুদা, জলদীর মাওলানা নছিম, ফটিকছড়ির আশরাফ বিন ইয়াকুব, নাজিরহাটের মোহাম্মদ আতিক, ফটিকছড়ির ওমর ফারুকসহ অনেকেই ফুয়া আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন।

 

ক্ষতিগ্রস্থরা জানান, এই প্রতারক শত শত মানুষের কাছ থেকে এভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তার রয়েছে একাধিক স্ত্রী। দীর্ঘ দিন ধরে সে এই প্রতারণার সাথে জড়িত। এক সময় দামপাড়া মাদ্রাসায়ও তার ঘাঁটি ছিল৷ সে একজন পরিচিত প্রতারক। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরের অক্সিজেন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন।

 

বাঁশখালী থানার ওসি (তদন্ত) সুধাংশু শেখার হালদার জানান, প্রতারণের মাধ্যমে লোকজনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়া ফটিকছড়ি ঠিকানার আবদুল্লাহ ওরফে ফুয়া আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক পাওনাদার থানায় ভীড় করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে দীর্ঘ দিন ধরে প্রতারণা কার্যক্রমের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।



সম্পর্কিত খবর