রাজশাহী

রাণীনগরে যোগদান করতে গিয়ে হামলার শিকার অধ্যক্ষ, মোটরসাইকেল আগুনে ভস্মীভূত

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ে যোগদান করতে গিয়ে অধ্যক্ষ জি এম মাসুদ রানা জুয়েল হামলার শিকার হয়েছেন। এছাড়া হামলাকারীরা তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে ভস্মীভূত করে দিয়েছে। আহত মাসুদ রানা জুয়েলকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার দুপুরে মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে।

আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সালাউদ্দীন আহম্মেদ জানান, মহাবিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন—এমন অভিযোগে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী গত ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে এবং ৫ আগস্টের পর মহাবিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় অধ্যক্ষ মাসুদ রানা জুয়েলকে প্রায় দুই বছর আগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর মাসুদ রানা জুয়েল উচ্চ আদালত থেকে চাকরিতে পুনর্বাহালের আদেশ পান। আদালতের নির্দেশনা ও মহাবিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আদেশে রোববার তিনি মহাবিদ্যালয়ে যোগদান করতে আসেন।

তিনি আরও জানান, মাসুদ রানা জুয়েল কার্যালয়ে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় একদল লোক এসে কার্যালয় থেকে মাসুদ রানাকে টেনেহিঁচড়ে বের করে মারধর শুরু করে এবং তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মাসুদ রানাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হামলাকারীরা কারা ছিলেন, তা তিনি জানাতে পারেননি।

অধ্যক্ষ মাসুদ রানা জুয়েলের ভাই প্রিন্স আহম্মেদ বলেন, “আমার ভাই মাসুদ রানা জুয়েল কলেজে যোগদান করতে গেলে বেশ কিছু লোক তাঁকে ও আমাকে বেদড়ক মারধর করে এবং মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মারধরে আমার ভাইয়ের এক হাত ও এক পা ভেঙে গেছে।” বর্তমানে মাসুদ রানা জুয়েল নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, “সকাল থেকেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সভায় ছিলাম। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছ থেকে মারধরের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠিয়েছি। তবে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মণ্ডুল বলেন, অধ্যক্ষকে মারধর ও মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 


সম্পর্কিত খবর