ঢাকা

বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও জেলা নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে দলীয় নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে শেষ বারের মতো বিদায় জানানো হয় এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। এর আগে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড-অফ-অনার প্রদান করা হয়।

 

মঙ্গলবার বাদ জোহর টাঙ্গাইল বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা নামাজে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রায় তিন সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন।

 

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা লুৎফর রহমান খান আজাদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য লুৎফর রহমান মতিন, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আহসান হাবিব মাসুদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ।

 

এদিকে, হামিদুল হক মোহনের মৃত্যুতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা ও তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

 

উল্লেখ্য, সোমবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তাঁর নির্বাচনী এলাকায় এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য শেষ করে টাঙ্গাইল ফেরার পথে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র ও তিন কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

 

মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ঘনিষ্ঠ সহচর হামিদুল হক মোহন বিএনপির জেলা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন এবং আমৃত্যু রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে গণসংযোগ চালাচ্ছিলেন।

 

তিনি টাঙ্গাইল নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সভাপতি, টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রধান উপদেষ্টা, টাঙ্গাইল কালচারাল রিফর্মেশন ফোরামের উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিনের ভগ্নিপতি।



সম্পর্কিত খবর