চট্টগ্রাম প্রতিদিন

হোমনায় নিজ বিল্ডিংএ দুই শিশুসহ নারীকে জবাই করে হত্যা

কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ঘারমোড়া ইউনিয়নের উত্তর মনিপুর গ্রামে একতলা বিল্ডিং এর ভবনে ঢুকে এক নারী ও দুই শিশুকে জবাই করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিবাগত রাতে এ নির্মম হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।

 

নিহতরা হলেন উত্তর মনিপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী জহিরুল ইসলামের স্ত্রী পাপিয়া আক্তার সুখি (৩৮) ও তার শিশু ছেলে মোঃ হোসাইন (৪) এবং নারীর প্রবাসী দেবর আব্দুস সাত্তারের ছেলে জুবায়েদ (৭)। তারা সবাই জহিরুল ইসলামের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন।

 

নিহতদের স্বজনরা জানায়, কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা তারা বুঝতে পারছেন না। তাদের কোনো শত্রুও ছিল না। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছেন।

 

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় কুমিল্লা থেকে পিবিআই, ডিবি ও সিআইডি টিম ঘটনাস্থলে এসেছেন। তার এসে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছেন লাশ উদ্ধার করা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছেন।

 

এ ঘটনায় পুলিশের ইন্সপেক্টর দীনেশ চন্দ্র দাশ গুপ্ত জানান, ডিবি, সিআইডি ও পিবিআই এসে সুরতহাল রিপোর্ট নিয়ে ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন।

 

নিহত পাপিয়া আক্তারের ভাই মোঃ সাইদুল হক জানান, তারা সকালে তার বোন ও ভাগিনার খুন হওয়ার খবর পেয়ে বাড়িতে এসেছেন। নিহত পাপিয়া আক্তারের ভাগিনা আমান উল্লাহও একই বক্তব্য দেন। তিনিও শুনেছেন কে বা কারা তার ফুপু ও ফুপাতো ভাই হোসাইন এবং তার চাচাতো ভাই জুবাইদকে জবাই করে ভেতরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে রেখেছে।

 

খুন হওয়া শিশু জুবাইদের মা লিপি আক্তার বলেন, তার শিশু ছেলে জুবাইদ কাল (সোমবার) রাতে তার বড় আম্মুর (বড় চাচী) সঙ্গে ঘুমানের বায়না ধরে। সে অনুযায়ী রাতে খাবার খেয়ে সেও তাদের সঙ্গে ছিল। সকালে অনেক বেলা হয়ে যাওয়ায় ছেলেকে খাওয়ানোর জন্য ডাকতে গেলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা দেখেন।

 

জুবাইদের মা প্রথমে তার বড় ছেল সাত বছরের জুনাইদকে পাঠান জুবাইদকে ডাকার জন্য। দরজা ধাক্কা দিয়ে ঘরে ঢুকে জুবাইদকে কাঁথা মুড়ি দিয়ে গড়াগড়ি করে শুয়ে থাকা অবস্থায় রয়েছে বলে মা লিপি আক্তারকে জানান। পরে তিনি ঘরে ঢুকে প্রথমে জা’য়ের ছেলেকে জবাই করা অবস্থায় দেখতে পান পরে একে একে অন্য দুটি কক্ষ থেকে জা এবং নিজ সন্তানের গলা কাটা লাশ দেখতে পান। ঘরের দরজার কাছে একটি ছুরি পেয়েছেন।

 

নিহত জুবাইদের মা লিপি জানান কারও সঙ্গে তাদের কোনো শত্রুতা অথবা পারিবারিক কোনো ঝামেলা নেই এবং তার জা’ও ভালো মানুষ ছিলেন। দেখার মধ্যে কারও সঙ্গে অনৈতিক কোনো সম্পর্কও চোখে পড়েনি।

 

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরি বলেন, এখনও কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। রুম থেকে কোনো কিছু খোয়া যাওয়ার বিষয়টিও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে।

 

ফোনে নিহত সুখি আক্তারের প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে কথা বলে তার বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, তাদের সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল না। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।



সম্পর্কিত খবর