মৌলভীবাজার-৪ আসন (কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল) খেলাফত মজলিসের মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীকে নিয়ে দায়িত্বশীলদের এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং) বাদ মাগরিব থেকে শুরু হয়ে এশার নামাজের সময় সাময়িক বিরতির পর রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল শহরের ভানুগাছ রোডস্থ একটি চায়নিজ রেস্টুরেন্টের পার্টি হলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার নির্ধারিত দায়িত্বশীলরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিস মৌলভীবাজার জেলা সহ-সভাপতি ও মৌলভীবাজার-৪ আসনের মনোনীত প্রার্থী শায়খ মাওলানা নুরুল মুত্তাকীন জুনাইদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আসন-৪ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ও শ্রমিক মজলিস মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি মাওলানা এম.এ. রহীম নোমানী।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিস মৌলভীবাজার জেলা সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুহিবুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সৈয়দ সাইফুর রহমান, মাওলানা মুজিবুর রহমান, কমলগঞ্জ উপজেলা সভাপতি শামসুল ইসলাম লিয়াকত, শ্রীমঙ্গল উপজেলা সভাপতি মাওলানা মোঃ আয়েত আলী এবং ইসলামী যুব মজলিস মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মোঃ এহসানুল হক প্রমুখ।
সভায় দুই উপজেলার দায়িত্বশীলদের পরামর্শে ৯ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। এতে আহ্বায়ক নির্বাচিত হন শ্রীমঙ্গল উপজেলা সাধারণ সম্পাদক কাজী মাওলানা মোঃ শিহাব উদ্দীন এবং সদস্য সচিব হন কমলগঞ্জ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হোসাইন আহমদ খালেদ।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে শায়খ মাওলানা নুরুল মুত্তাকীন জুনাইদ বলেন, “রাজনীতি আমাদের কাছে ক্ষমতা ভোগের উপায় নয়, বরং মানুষের সেবা করার একটি বড় দায়িত্ব। মৌলভীবাজার-৪ আসনের মানুষ দীর্ঘদিন অবহেলিত থেকেছে। আমি নির্বাচিত হলে মানুষের দোরগোড়ায় ন্যায়ভিত্তিক সেবা পৌঁছে দেব।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সময়ে জনসাধারণ দুর্নীতি, বেকারত্ব ও নানা সামাজিক সমস্যায় জর্জরিত। খেলাফত মজলিস জনগণের প্রকৃত কল্যাণে কাজ করে আসছে। আসন্ন নির্বাচনে আপনাদের দোয়া ও সহযোগিতা পেলে আমরা এই আসনকে একটি আদর্শ আসনে রূপান্তরিত করতে চাই।”
প্রার্থী এ সময় শিক্ষার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা, কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
তিনি দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমাদের কাজ শুধু নির্বাচনে জয়লাভ করা নয়, বরং মানুষের আস্থা অর্জন করা। এজন্য এখন থেকেই মাঠে নেমে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
সভায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রার্থীর প্রচারণা ও কার্যক্রম পরিচালনা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শেষে সভাপতির সমাপনী বক্তব্য ও দোয়ার মাধ্যমে মতবিনিময় সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।