আন্তর্জাতিক

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবারের সর্বশেষ হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩০০ জনের বেশি। হামলার পর নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।  

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে বিমানবন্দরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রথম দিকে হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো না হলেও পরে সৌদি কর্তৃপক্ষ ১২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে ঘটনার বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে হতাহতের তথ্য প্রকাশ করা হয়।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া দুজন বাংলাদেশি এবং ফিলিস্তিন, যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া ও সুদানের একজন করে নাগরিক নিহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিতে ঘটনাস্থলে জরুরি উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

 

সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পর বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে আহত ব্যক্তিদের পড়ে থাকতে দেখা যায়। আহতদের উদ্ধারে এক ডজনের বেশি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। গুরুতর আহতদের হাসপাতালে স্থানান্তরে হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হয়। হামলায় আহত এক যাত্রী রয়টার্সকে জানান, বিস্ফোরণের আগে বিমানবন্দরের বাইরে আকাশে একটি বস্তু উড়ে যেতে দেখেছিলেন তিনি। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বহির্গমন ফটকের কাছে ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে। তবে আকাশে দেখা ওই বস্তুর পরিচয় কিংবা হামলার ধরন সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

ঘটনার পর বিমানবন্দরের প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে দেয় পুলিশ। উড়োজাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় রিয়াদগামী বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয় অথবা সেগুলোকে বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এদিকে হামলার পর রিয়াদে অবস্থানরত নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড ও কানাডা। মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে নাগরিকদের বিমানবন্দর এবং এর আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। অন্যান্য দেশের দূতাবাস থেকেও একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

 

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরে এটি তৃতীয় হামলার ঘটনা। এর আগে সংঘটিত দুটি হামলায় চারজন নিহত হন। ওই হামলাগুলোর একটিতে সৌদি আরবের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আগের হামলাগুলোর দায় স্বীকার করেছিল ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী। তবে শনিবারের সর্বশেষ হামলার পরপরই কোনো পক্ষ এর দায় স্বীকার করেনি। হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ এই হামলার পর সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বিমান যোগাযোগকেন্দ্রটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এক সপ্তাহের মধ্যে ধারাবাহিক তিনটি হামলার ঘটনা দেশটির বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।

 



সম্পর্কিত খবর