আজকাল থাইরয়েডের সমস্যা ক্রমেই সাধারণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। ওজন বেড়ে যাওয়া, চুল পড়া, ক্লান্তি বা ঘুমের ব্যাঘাত—এসব উপসর্গের পেছনে থাকতে পারে থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় আমাদের প্রতিদিনের খাবারই নীরবে থাইরয়েড সমস্যাকে আরো জটিল করে তোলে।
তাই সচেতনভাবে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করলে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ।
চলুন, তাহলে জেনে নেওয়া যাক, কোন খাবারগুলো থাইরয়েডের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে—
ময়দার পাউরুটি ও রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট
ময়দার তৈরি খাবারে ফাইবার কম থাকে, অথচ রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ অনেক বেশি। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়, যা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স সৃষ্টি করে এবং থাইরয়েডগ্রন্থির কাজ ব্যাহত করে। তা ছাড়া গ্লুটেনযুক্ত খাবার অনেকের ক্ষেত্রে থাইরয়েডে প্রদাহ বা অটোইমিউন প্রতিক্রিয়া বাড়িয়ে দিতে পারে।
আলুর চিপস ও ভাজাপোড়া
চিপস বা অন্যান্য ভাজা স্ন্যাকসে থাকে অতিরিক্ত লবণ, ট্রান্স ফ্যাট ও কৃত্রিম ফ্লেভার। এসব উপাদান শরীরে আয়োডিন শোষণে বাধা দেয়, যা থাইরয়েড হরমোন উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। অতিরিক্ত নোনতা খাবার শরীরে পানি ধারণ বাড়িয়ে দেয়, ফলে গলা ফুলে যাওয়া বা হরমোন ভারসাম্যের সমস্যা দেখা দেয়।
বাদাম
চিনাবাদাম ও কিছু প্রজাতির বাদামে গোইট্রোজেন নামের যৌগ থাকে, যা থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে বাধা দেয়।
যদিও বাদাম পুষ্টিকর, তবু থাইরয়েড রোগীদের অল্প পরিমাণে খাওয়াই নিরাপদ।
বাঁধাকপি, ব্রকলি ও ফুলকপি
এই ক্রুসিফেরাস সবজিগুলো ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর, কিন্তু কাঁচা অবস্থায় খেলে আয়োডিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। রান্না বা স্টিম করলে এই প্রভাব অনেকটাই হ্রাস পায়। তাই থাইরয়েড রোগীদের জন্য পরামর্শ—এই সবজি খেতে হলে ভালোভাবে রান্না করে খান।
কফি
অনেকে সকালে ঘুম থেকে উঠে থাইরয়েডের ওষুধ খাওয়ার পরপরই কফি পান করেন, যা ভুল অভ্যাস।