ঢাকা

অনিয়মের অভিযোগে উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক, অভিযোগ লিখিত দিতে বলল ডুয়েট প্রশাসন

ডুয়েট উপাচার্যের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বৈঠককে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বৈঠকে উত্তেজনা, উচ্চবাচ্য ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে প্রশাসন ও ছাত্রদল পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়েছে।

 

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে দাবি করা হয়, প্রশাসনের পদত্যাগ দাবিতে ছাত্রদলের ২০-২৫ জন সদস্য উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। পরে বিষয়টি যাচাই করতে ডুয়েট সাংবাদিক সমিতির প্রতিনিধিরা প্রশাসন ও ছাত্রদল উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

 

উপাচার্যের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১১টার দিকে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ছাত্রদলের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জনের একটি প্রতিনিধি দল উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে সাম্প্রতিক নিয়োগ প্রক্রিয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি ও আঞ্চলিক সংগঠন নিষিদ্ধকরণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

 

ডুয়েট উপাচার্য বলেন, তাঁদের প্রশ্নের ধরণ ছিল উদ্যত। কয়েকজন শিক্ষককে ব্যক্তিগত ভাবে আক্রমণ করে কথা বলা হয়েছে। আমরা লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি এবং সব তথ্য যাচাইয়ের জন্য প্রশাসনের দরজা খোলা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বৈঠকের একপর্যায়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সাদা কাগজ এগিয়ে দিয়ে পদত্যাগ করতে বলা হয়। আমি জানিয়েছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে রাষ্ট্র আমার ওপর দায়িত্ব অর্পণ করেছে। রাষ্ট্র যদি আমাকে অযোগ্য মনে করে, আমি যে কোনো সময় পদত্যাগে প্রস্তুত।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু তৈয়ব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমাদের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের কথা না থাকলেও সৌজন্যতার খাতিরে বসেছি। তবে তাঁদের আচরণ সীমা লঙ্ঘন মূলক ছিল। প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি শতভাগ নিশ্চিত এ ধরনের কোনো কাজে জড়িত নই। কেউ প্রমাণ দিতে পারলে সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগ করব।

 

ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে প্রশাসনের বিরুদ্ধে আনা অনিয়মের অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক। বৈঠকের সময় কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। সহযোগী অধ্যাপক ড. মনোয়ার বলেন, বৈঠকের একপর্যায়ে আমাকে ব্যক্তিগত ভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, যা অগ্রহণযোগ্য। লিখিত অভিযোগ দিলে প্রতিটি বিষয়ে জবাব দেওয়া হবে। 

 

ডুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি জামিরুল ইসলাম জামিল বলেন, পূর্বনির্ধারিত বৈঠকে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি, অভিযোগ ও উদ্বেগ আনুষ্ঠানিক ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু উপাচার্যের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সুস্পষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি। তিনি দাবি করেন, বৈঠকে কোনো শিক্ষককে ব্যক্তিগত ভাবে আক্রমণ বা অশালীন আচরণ করা হয়নি এবং আলোচনা স্বাভাবিক ছিল। লিখিত অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশাসনের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমাণ (ইউজিসি), (শিক্ষা মন্ত্রণালয়) ও (দুদক)-এ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি বিষয়টি গণমাধ্যমেও তুলে ধরা হবে।

তিনি আরও জানান, অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুস্পষ্ট অবস্থান প্রত্যাশা করা হয়েছে। উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে, তাঁদের আমরা দেখতে চাই না। আমাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে, সময় হলে জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

 

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘অবরুদ্ধ’ করার দাবির বিষয়ে প্রশাসন সরাসরি কিছু না বললেও, উভয় পক্ষই বৈঠককে পূর্বনির্ধারিত বলে উল্লেখ করেছে। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।



সম্পর্কিত খবর